১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজশাহীতে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

প্রাইভেট পড়া শেষে অন্য শিক্ষার্থীদের বিদায় করে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে ভাষ্য পুলিশের।

রাজশাহীতে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার ওমর ফারুক জামায়াতে ইসলামীর পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ‘রোকন’।

রাজশাহী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 12:01 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

রাজশাহীর পবা উপজেলার নয় বছরের এক মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকালে উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের পাকারমাথা এলাকায় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন।

গ্রেপ্তার ওমর ফারুক জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ‘রোকন’ ও গ্রাম্য চিকিৎসক। 

ওসি আব্দুল মতিন বলেন, প্রথমে ভুক্তভোগী শিশুর মা অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তিনি নিজ বাড়ির সাথে একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন। ফারুকের বড় ভাইও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ২২ দিন আগে শিশুটি প্রতিদিনের মতো ফারুকের বাড়িতে পড়তে যায়। পড়া শেষে অন্য শিক্ষার্থীদের বিদায় করে শিশুটিকে একা পেয়ে তার শরীরে অনৈতিক স্পর্শ করেন ফারুক। পরে বাড়ি ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করে মায়ের কাছে ঘটনাটি জানায়।

শিশুটির মায়ের দাবি, বিষয়টি ফারুকের বাবাকে জানানো হলেও তিনি ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক ও তার পরিবারের সদস্যরা। ওমর ফারুকের দাবি, শিশুটি মূলত তার স্ত্রীর কাছেই পড়তে আসে। ঘটনার দিন স্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় তিনি পড়াচ্ছিলেন, তবে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ করেননি। এ অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ফারুকের বাবাও।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের আমির আব্দুর রহমান মিলন বলেন, ওমর ফারুক তাদের সংগঠনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন। বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।