Published : 27 Oct 2025, 06:48 PM
সিরাজগঞ্জে উদ্বেগজনক হারে এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে এ জেলাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এইচআইভি সেন্টারের তথ্যমতে, জেলায় পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৫৫ জন; যার ৭৩ শতাংশই ‘ইনজেকটিভ ড্রাগ’ ব্যবহারকারী। এতে উদ্বেগ জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিনিস্টেটর মাসুদ রানা বলেন, আক্রান্ত ২৫৫ জনের মধ্যে ‘ইনজেকটিভ ড্রাগ’ ব্যবহারকারি ১৮৭ জন। আর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯ জন। সাধারণ ৩৫ জন ও যৌনকর্মীর সংখ্যা চারজন।
এমন পরিস্থিতিতে সিরাজগঞ্জ জেলাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান এআরটি সেন্টারের এ কর্মকর্তা।
এআরটি সেন্টার থেকে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে সিরাজগঞ্জে এইচআইভি পরীক্ষা শুরু হয়। এরপর থেকে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় ২০২০ সালে চারজন, ২০২১ সালে আটজন ও ২০২২ সালে ৬৯ জন রোগী শনাক্ত হয়।
২০২৩ ও ২০২৪ সালে জেলায় আরও ১৩৬ জন আক্রান্ত হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শনাক্ত ৩৮ জন মিলে বর্তমানে জেলায় রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৫ জনে; যাদের মধ্যে ৭৩ শতাংশই মাদকসেবী। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন।
যেভাবে ছাড়ায় এইডস
এইচআইভি একটি ভাইরাসের ছোট নাম। এই ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমণ হলেই রোগ হয়ে যায় না। সংক্রমণ হয়ে রোগ হতে অনেক বছর নেয়। ১০ থেকে ১৫ বছর বা ২০ বছর পর এই রোগ হয়। এ জন্য যাদের এইচআইভি আছে, তাদের অনেকের ক্ষেত্রে কোনও রোগও নেই।
এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য একই সিরিঞ্জে মাদক গ্রহণ, রোগের তথ্য গোপন, তরুণদের সচেতনতার অভাব ও অনিয়ন্ত্রিত যৌন সর্ম্পককে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা।
প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা নিষিদ্ধ নেশা জাতীয় ইনজেকশনের মাধ্যমে এই রোগ বেশি ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধের পাশাপাশি কাউন্সিলিং করা হয়ে থাকে। সেইসঙ্গে ‘ইনজেকটিভ ড্রাগের’ ব্যবহার কমাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর মাসুদ রানা বলেন, অনেকে বুঝে না বুঝে নেশা জাতীয় ইনজেকশন গ্রহণের সুই বা সিরিঞ্জ একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করছে। এতে দ্রুত এইডসের ভাইরাস একজন থেকে অন্যজনে শরীরের ছড়াচ্ছে। তবে আক্রান্তরা এআরটি সেন্টার থেকে নিয়মিত বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক আকিকুন নাহার বলেন, “সমাজের নিম্নআয়ের মানুষরা বেশি ‘ইনজেকটিভ ড্রাগ’ শেয়ারিং করে থাকেন। ফলে এদের মধ্যে বেশি এইচআইভি পজেটিভ পাওয়া যাচ্ছে।
“আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তাদের মনোবল বাড়াতে কাউসিলিং করা হচ্ছে। তবে ইনজেকটিক ড্রাগের ব্যবহার কমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে।”
সিরাজগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অবৈধ নেশা জাতীয় ইনজেকশন বিপনের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২ বছরে বিভিন্ন অভিযানে প্রায় এক হাজার ৯০০ অ্যাম্পল ইনজেকটিভ ড্রাগ জব্দ করা হয়েছে।
এইডস প্রতিরোধে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার কথা বলেছেন সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন।