১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বেনাপোল দিয়ে দুদিনে সাড়ে ৩৮ হাজার কেজি কাঁচা মরিচ আমদানি

ক্রেতার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত কেজিপ্রতি ১৩৫ টাকা থেকে ১৬০ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

বেনাপোল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 03:40 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধির মধ্যে দুইদিনে ৩৮ হাজার ৪২০ কেজি ভারতীয় কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। 

ভারত থেকে ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে মরিচ কেনা হলেও দেশের ক্রেতার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত কেজিপ্রতি ১৩৫ টাকা থেকে ১৬০ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। 

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়। মঙ্গলবার প্রবেশ করেছে ২৯ হাজার ২২০ কেজি, আর সোমবার প্রবেশ করে ৯ হাজার ২০০ কেজি মরিচ।

সীমান্তের ওপারে আরও কয়েক ট্রাক কাঁচা মরিচ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। বুধবার সরকারি ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার সেগুলো বন্দরে প্রবেশ করবে বলে জানান তিনি। 

এসব চালানের আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ ও রয়েল ইন্টারপ্রাইজ। বন্দর থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স ও রয়েল ইন্টারপ্রাইজ।

আমদানিকারকরা জানান, আমদানিকৃত ইনভয়েজে (ক্রয় মূল্য) প্রতি কেজির দাম ২৫ থেকে ৪০ টাকা উল্লেখ করা আছে। কিন্তু যে দামেই কেনা হোক না কেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রতি কেজি দশমিক ৫০ ডলারে শুল্কায়ন করায় মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৬১ দশমিক ৭৮ টাকা। 

এর উপর ইন্স্যুরেন্স, ল্যান্ডিং চার্জ ও ডিউটি দিয়ে প্রতিকেজি মরিচের দাম পড়ছে ৬৪ টাকা থেকে ৭৯ টাকা। 

এরপর ভারতীয় রপ্তানিকারকের খরচ, ট্রাক ভাড়া, এদেশের এলসি ওপেন ব্যাংক খরচ, ডলার মূল্য সমন্বয়, লেবারসহ কাস্টমস, পোর্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট খরচ, ঢাকায় পাঠানো ট্রাক ভাড়াসহ খরচ আছে প্রতি কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সেই হিসেবে এক কেজি মরিচের দাম পড়ছে ১৩৫ টাকা থেকে ১৬০ টাকা। 

মরিচ আমদানিকারক শাহাজান কবির জানান, “সামান্য লাভ রেখে মরিচ বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম কমে আসবে। তবে পরিবহন, কাস্টমস, বন্দর, খালাসসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে আমরা লোকসানের মুখে পড়ছি।”

আরেক আমদানিকারক রয়েল ইন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা ভারত থেকে ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে কিনে আনি। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেটার মিনিমাম মূল্য করেছে ৬১ দশমিক ৭৮ টাকা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি ক্রয় মূল্যের ওপর শুল্ক নিত তবে আমরা আরো কম দামে বাজারে কাঁচা মরিচ সরবরাহ করতে পারতাম।”

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন। 

এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কমতে শুরু করেছে। 

বেনাপোল বাজারের কাঁচামালের পাইকারি ব্যবসায়ী ইছাহাক আলী জানান, দুইদন আগেও বাজারে কাঁচা মরিচ ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।  তবে মঙ্গলবার সকালে প্রতি কেজি ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও বিকেলের দিকে ২৫০/২৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।