বিনিয়োগকারীদের ‘টাকা নিয়ে উধাও’, একজন গ্রেপ্তার

এ অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

আসাদুজ্জামান সুমননবাবগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Nov 2022, 07:19 PM
Updated : 18 Nov 2022, 07:19 PM

বিনিয়োগের টাকায় অধিক মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ‘কয়েক হাজার বিনিয়োগকারীর বিপুল অংকের টাকা নিয়ে’ উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। 

‘আনজাম গ্লোবাল লিমিটেড’ নামের এই প্রতিষ্ঠান ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ। 

এ অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। 

গ্রেপ্তার সাখাওয়াত হোসেন বাপ্পি (৪২) নবাবগঞ্জের যন্ত্রাইল এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে। 

নবাবগঞ্জ থানার এসআই মৃত্যুঞ্জয় কুমার কীর্তনীয়া জানান, উপজেলার কাশিমপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

এস আই মৃত্যুঞ্জয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আনজাম ই-কমার্স মেগাশপ বা ভেনডর অনলাইন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারণা করার অভিযোগে সুরভী আক্তার নামের এক নারী বাদী হয়ে গত ১৫ নভেম্বর চারজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেছেন। ওই মামলার এজাহার নামীয় আসামি বাপ্পি। 

একই মামলার আরেক আসামি উপজেলার কাশিমপুরের প্রয়াত মহিউদ্দিনের ছেলে তুষার আহমেদ (৫০)। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার একটি মামলায় তিনি জেল হাজতে থাকায় তাকে এই মামলায় অর্ন্তভুক্ত করার জন্য ১৬ নভেম্বর আদালতে আবেদন পাঠানো হয়েছে। 

এই মামলায় বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। 

প্রতারণার শিকার কয়েকজন জানান, নবাবগঞ্জের কাশিমপুরে একটি ভবন ভাড়া নিয়ে আনজাম গ্লোবাল লিমিটেড নামের একটি ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠান খোলা হয়।  

এই প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে এরা একজন গ্রাহককে অনলাইনে ২০০ আইডি দেওয়ার প্যাকেজসহ একাধিক প্যাকেজের প্ল্যান দেখিয়ে বিভিন্ন কায়দায় টাকা নেওয়া শুরু করে। এ ছাড়া মেগাসপ প্যাকেজের শেয়ার দেখিয়ে অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে আরও দুই লাখ টাকা করে নেয় ওই চক্রটি।  

আনজামের ই-কমার্সের সফটওয়ারের মাধ্যমে প্রতি আইডিতে ১ হাজার ৬০০ টাকা বিনিয়োগ করে গ্রাহক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিনিয়োগের অর্ধেক টাকা ফেরত পাবেন বলে প্রলোভন দেখানো হয়। 

পরবর্তীতে সফটওয়ারে বিজ্ঞাপন ক্লিক করে প্রত্যেক আইডিতে প্রতিদিন একবার করে ক্লিক করে ১০ টাকা করে আয় করার পদ্ধতিসহ মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) সিস্টেম মেনে লভ্যাংশ বণ্টনসহ প্রতি লাখে ২৫ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার কথাও বলা হয়। 

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার দক্ষিণ জামসা এলাকার দুর্জয় নামের এক ভুক্তভোগী জানান, কলেজ বন্ধুদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ৮০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে আইডি পেয়েছিলেন। আইডিতে ক্লিক করে প্রায় ছয় মাস পর তিনি ৫ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছিলেন। 

“তারপর এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও অনেক চেষ্টা করেও আর বাকি ৭৫ হাজার টাকা ফেরত পাইনি। তাই বাকি টাকা ফেরত পাবার আশা আমি এক রকম ছেড়েই দিয়েছি। নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি; ভাগ্যিস অন্য কাউকে বুঝিয়ে আনজামে বিনিয়োগ করাইনি।” 

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, “আমরা একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। শুধু তো অভিযোগ করলেই হবে না। টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয়ে তো অবশ্যই ডকুমেন্ট থাকতে হবে। এটা হলো মূলকথা। অভিযোগকারীর কেউ বিনিয়োগের কোনো ডকুমেন্ট আমাদের দেননি এমনকি দেখাতেও পারেনি।” 

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-ইউএনও মো. মতিউর রহমান বলেন, “বিষয়টি  আমি জেনেছি। কয়েক হাজার গ্রাহকের ৬০ কোটি টাকার উপরে নিয়ে নাকি প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।” 

কয়েকদিন আগে সুরভী আক্তার নামের এক ভদ্র মহিলা অভিযোগ তার কাছে এসেছিলেন জানিয়ে ইউএনও বলেন, “তার কাছ থেকেও টাকা নিয়ে অল্প কিছু টাকা ফেরত দিয়েছে; বাকি টাকা ফেরত চাইলে তাকে নাকি ভয়ভীতি দেখায়। এগুলো শুনে আমি তাকে নবাবগঞ্জ থানায় পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।” 

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কিনা জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, “ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তারপরও আরও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 

এ বিষয়ে কথা বলতে আনজাম গ্লোবাল লিমিটেডের নবাবগঞ্জের প্রধান জালাল উদ্দিন আহম্মেদকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক