Published : 11 Aug 2026, 08:52 PM
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন চর ও নদীর পাড়ে রাত হলেই বসে জুয়ার আসর।
উপজেলার একাধিক স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ‘ফরডাবুর-ছয়গুটি’ নামে এসব জুয়ার আসর চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ফরিদপুর ও ভাতগ্রাম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খোদাবক্স গ্রামের খরকার দিঘির দক্ষিণ পাড়, দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা গ্রামের নদীর বাঁধের পূর্ব পাশের চর, ধাপেরহাট ইউনিয়নের বকসীগঞ্জ হাইস্কুলের পেছনে নলেয়া নদীর পাড় এবং ফরিদপুর ইউনিয়নের মহেশপুর সংলগ্ন মাঝিপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে এসব আসর বসে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এসব জুয়ার আসর খোলা মাঠ, নদীর চর ও নির্জন জায়গায় বসায় পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর আগেই জুয়াড়িরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন সাদুল্লাপুর থানার ওসি এ কে এম হাবিবুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জুয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। জুয়ার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশ অভিযান চালাবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব জুয়ার আসরে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন ও বিক্রি হয়। জুয়ায় টাকা হারিয়ে অনেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে আবার খেলায় ফেরেন। এতে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বাড়ছে বলেও দাবি তাদের।
জামালপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ও স্কুলশিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, তার বাড়ির পাশের জামুডাঙ্গা গ্রামের ঘাঘট নদীর বাঁধের পূর্ব পাশের চরে দীর্ঘদিন ধরে ফরডাবুর জুয়া চলছে। সন্ধ্যার পর থেকেই মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে জুয়াড়িরা সেখানে আসতে শুরু করেন।
তিনি বলেন, সেখানে ত্রিপলের ছাউনি থাকায় বৃষ্টির মধ্যেও জুয়া বন্ধ হয় না। জুয়াড়িদের মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।
সাইদুর রহমান বলেন, “জুয়া খেলে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। অনেকে জুয়ার বোর্ডে হারানো টাকা পরিশোধ করতে গবাদিপশু ও ঘরবাড়ি বিক্রি করছেন। পুলিশকে বারবার জানিয়েও স্থায়ী প্রতিকার পাওয়া যায়নি।”
ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাফুজার রহমান মাফু বলেন, খরকার দিঘির জুয়ার আসর বন্ধে তিনি একাধিকবার চেষ্টা করেছেন এবং পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জুয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসে বলেও দাবি করেন তিনি।
বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কাইয়ুম হুদা বলেন, এসব জুয়ার আসর নিয়ে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জুয়ার আসরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এরপরও জুয়া বন্ধে কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
উপজেলা বণিক সমিতির সভাপতি সফিউল ইসলাম স্বপন বলেন, জুয়ার কারণে অনেক ব্যবসায়ী ও কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উঠতি বয়সী যুবক ও শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ জুয়া ও মাদকের দিকে ঝুঁকছে। এতে সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।