কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: সাক্কুর সম্পদ সবচেয়ে বেশি

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদের ছয় প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

কুমিল্লা প্রতিনিধিআবদুর রহমান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 May 2022, 05:24 PM
Updated : 20 May 2022, 06:34 PM

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে এই ছয় প্রার্থীর দাখিল করা হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

আওয়ামী লীগ মনোনীত আরফানুল হক রিফাতের হাতে নগদ টাকা নেই; তবে ব্যাংকে তার টাকা রয়েছে।

হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রার্থীদের মধ্যে দুইবারের মেয়র এবারের স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি। আওয়ামী লীগ মনোনীত আরফানুল হক রিফাত বিএ, দলটির বিদ্রোহী মাসুদ পারভেজ খান ইমরান বিএসএস; স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কৃত নিজাম উদ্দিন কায়সার বিকম; নাগরিক ফোরামের ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান বাবুল এইচএসসি; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাশেদুল ইসলাম কামিল পাস।

ছয় প্রার্থীর মধ্যে নিজাম উদ্দিন কায়সার, কামরুল আহসান বাবুল ও  রাশেদুল ইসলামের গাড়ি নেই।

স্থাবর, অস্থাবর, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কৃষি জমি মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তির মালিক মনিরুল হক সাক্কু। তার কোনো ধার-দেনা নেই। সাক্কুর নগদ টাকার পরিমাণ এক কোটি ৩৭ লাখ ৫৯ হাজার ৮৯২ টাকা; ব্যাংকে জমা দুই লাখ ৯৪ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নগদ টাকা আছে ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৮২০ টাকা; ব্যাংকে জমা নয় লাখ ৫৪ হাজার ৭৫৭ টাকা। বন্ড এক্সচেঞ্জ মিলিয়ে সাক্কুর টাকার পরিমাণ দুই লাখ। স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৫০ লাখ ও স্ত্রীর বিনিয়োগ ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।

সাক্কুর একটি ল্যান্ডক্রুজার জিপ ও স্ত্রীর একটি জিপ আছে। সাক্কু ও তার স্ত্রী দুজনেরই স্বর্ণালঙ্কার আছে এক লাখ টাকা সমমূল্যের। সাক্কুর ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জাম আছে ৪৭ হাজার ও আসবাবপত্র এক লাখ টাকার।

লালমাইয়ে ২৫০ শতাংশ ও মনোহরগঞ্জে যৌথমালিকানাধীন ২০ একর কৃষি জমি রয়েছে। স্ত্রীর নামে গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে কৃষি জমি আছে ১.২৩ একরের বেশি। সাক্কুর ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট, কুমিল্লায় ১৭টি ও নিজের বসতবাড়ির ফ্ল্যাট আছে। এছাড়া স্ত্রীর নামে বসুন্ধরায় তিন কাঠা জমি, সাক্কুর স্বদেশ প্রপার্টিজে পাঁচ কাঠা জমি, বসুন্ধরায় তিন কাঠা, ১৭ শতাংশের নির্মাণাধীন ভবন, ফাতেমা জাহানার টাওয়ারে ১৬৫০১৯৫০, ২৫৮, ১৮৪০১৬৫০ বর্গফুটের দোকান আছে। দোকান আছে সাত্তার খান কমপ্লেক্সেও। স্ত্রীর নামে রেসকোর্সে ৭২৫৬ শতাংশের রেস্ট হাউজ ও রেস্টুরেন্ট আছে। ধানমণ্ডিতে তিনটি দোকান আছে স্ত্রীর নামে।

সাক্কুর বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি মামলা চলমান আছে। ১০টি ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে তার।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের কৃষিখাত থেকে বাৎসরিক আয় ১০ হাজার, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান ও অন্যান্য ভাড়া বাবদ আয় পাঁচ লাখ, ব্যবসায় ১৭ লাখ ১১ হাজার ৮০০, রিফাতের ওপর নির্ভরশীলদের আয় চার লাখ ৬৬ হাজার ৭৬২ ও সুদ বাবদ আয় তিন লাখ তিন হাজার ৯৫ টাকা।

রিফাতের ব্যাংকে জমা আছে ছয় লাখ ১২ হাজার ও স্ত্রীর জমা আছে ৩৩ হাজার টাকা। পোস্টাল সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয় আছে ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৪ টাকা।

নৌকার বৈঠা এবার আরফানুল হক রিফাতের হাতে

রিফাতের এক কোটি টাকা মূল্যের একটি জিপ ও ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি কার আছে। স্বামী-স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার আছে ৫০ ভরি। তাদের ইলেকট্রনিক সামগ্রী আছে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা সমমূল্যের। আসবাবপত্র আছে তিন লাখ ৮৫ হাজার টাকার।

অন্যান্য ব্যবসার মূলধন ছয় লাখ টাকা। রিফাতের ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষি জমি, তার স্ত্রীর ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষি জমি আছে। যৌথ মালিকানায় ৩০ লাখ টাকার সম্পত্তি আছে ফেনী গ্রান্ড টাওয়ারে। ঢাকা ও কুমিল্লায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট আছে তার।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মাসুদ পারভেজ খান ইমরানের কৃষিখাত থেকে বার্ষিক আয় ২০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সুদ থেকে আয় আট হাজার ও তার ওপর নির্ভরশীলদের সুদ থেকে আয় সাত লাখ ৮০ হাজার টাকা।

তার নগদ টাকার পরিমাণ দুই লাখ ৪২ হাজার ৭৪২ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা তিন লাখ ১৭ হাজার ও তার স্ত্রীর জমা সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা।

তার ও তার স্ত্রীর যথাক্রমে ৫২ লাখ ও ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের গাড়ি আছে। তার ও তার স্ত্রীর ৭৫ তোলা স্বর্ণালঙ্কার আছে। আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী আছে চার লাখ টাকা মূল্যের।

কৃষি জমি আছে ৭৭.৬৬ শতাংশ, ঢাকায় ২৫ লাখ টাকার ফ্ল্যাট ও লালমাইয়ে ১.১২ একর জায়গা আছে ইমরানের। তার বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি মামলা চলমান। তিনটি ফৌজদারি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

বিএনপিপন্থি প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারের বিরুদ্ধে আটটি ফৌজদারি মামলা চলমান। ছয়টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। তার চাকরি থেকে বাৎসরিক আয় আট লাখ ৪০ হাজার টাকা, তার নগদ টাকা আছে ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৫ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে তিন লাখ দুই হাজার ও কোম্পানির শেয়ার আছে ৪০ হাজার টাকার। তিনি ও তার স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার আছে ৫০ তোলা। তাদের আট লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আসবাবপত্র রয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। শিক্ষকতা পেশা থেকে তার বাৎসরিক আয় তিন লাখ ১৮ হাজার টাকা। তার বাসায় সামান্য কিছু আসবাবপত্র আছে। তার ৮.২৫ শতাংশ অকৃষি জমি ও একটি বাড়ি আছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান বাবুলের বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি মামলা চলমান। তার ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় আড়াই লাখ টাকা। নগদ টাকা আছে তিন লাখ ২০ হাজার। বিয়ের উপহারস্বরূপ স্বর্ণ আছে ৩০ ভরি ও প্রায় তিন লাখ টাকার অন্যান্য সামগ্রী আছে তার।

তার তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যে অকৃষি জমি আছে। এছাড়াও ১৭৬ শতাংশ তিনি ও ১৯৬ শতাংশ জায়গায় তার ওপর নির্ভরশীলদের ভবন তৈরি হচ্ছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক