ঠাকুরগাঁওয়ে ভোট কেন্দ্রে গুলিতে বৃদ্ধ নিহত
ঠাকুরগাঁওয়ে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের হাঙ্গামার মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলার সময় পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন।
হামলায় ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহতও হন।
রুহিয়া থানার ওসি চিত্ত রঞ্জন রায় বলেন, রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ আসাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হামিদুল ইসলাম (৬৫) রাজাগাঁও ইউনিয়নের মৃত তছির উদ্দীনের ছেলে।
ওসি চিত্ত রঞ্জন রায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রাজাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণ শেষে ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ আসাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার তৌকির আহমেদ ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন।
“এতে ইউপি সদস্য পদে টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থী মাসুদ রানা ওরফে সোনা মিয়া বিজয়ী হন এবং ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী শাহ আলম পরাজিত হন।”
তিনি বলেন, ফলাফল ঘোষণার পর শাহ আলম ও মাসুদ রানা ওরফে সোনা মিয়ার সমর্থকের মধ্যে হাঙ্গামা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তারা প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষে গিয়ে হামলা করে। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা এগিয়ে গেলে শাহ আলম ও মাসুদ রানা ওরফে সোনা মিয়ার সমর্থকরা তাদের উপরও হামলা করে।
“ওই সময় প্রিসাইডিং অফিসার তৌকির আহমেদের নির্দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে হামিদুল ইসলাম নামে একজন নিহত হন।”
তিনি আরও জানান, হামলায় প্রিসাইডিং অফিসার তৌকির আহমেদসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ ও আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, হামিদুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
রোববার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৯৬০ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৭৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা আসনে ২০৯ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৬৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
