Published : 28 Aug 2019, 12:56 PM
জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য মিলেছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের বোচাগাড়ি গ্রামের কৃষক মোনতাজ মিয়া বলেন, এবার বন্যায় তার ১২ শতক জমির আমন বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে।
“এ অবস্থায় চরের মধ্যে বীজতলা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। তাই একটি এঁড়ে বাছুর ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে পাশের সাদুল্লাপুর হাট থেকে চড়া দামে চারা সংগ্রহ করে পাঁচ বিঘা জমিতে রোপণ করছি।”
সাদুল্লাপুর হাটে মঙ্গলবার আমন চারা বিক্রি করতে এসেছিলেন সাদুল্লাপুর উপজেলার হবিবুল্লাপুর গ্রামের মহব্বত আলী (৩৭)।
মহব্বত বলেন, “প্রায় ১২ শতক জমিতে আমনের বীজ বুনেছিলাম। সেই চারা বর্গা নেওয়া তিন বিঘা জমিতে রোপণ করার পর অবশিষ্ট ছয় পন (৮০ আঁটি) চারা প্রতি পন ৫৫০ টাকা করে বিক্রি করলাম।”
হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে পনপ্রতি ২০ টাকা টোল আদায়ের অভিযোগ করেছেন মহব্বতসহ অনেকে।
ফুলছড়ি উপজেলার ভাষারপাড়া গ্রামের কৃষক আমির আলী (৪৫) বলেন, “প্রায় ১১ হাজার টাকা খরচ করে তিন বিঘা জমিতে আমন ধান লাগাইছিলাম। কিন্তু বন্যায় নষ্ট হয়ে গেল। তাই পাঁচ হাজার টাকা ঋণ করে হাটে এসেছি চারা কিনতে। এসে দেখছি দাম তিন গুণ বেশি।

সদর উপজেলার গোদারঘাট গ্রামের ফরিদুল মিয়া বলেন, “কষ্ট করে জমি তৈরি করলাম। চারার অভাবে রোপণ করতে পারছি না। এই হাটে চারা কিনতে এসেছি। কিন্তু বিক্রেতারা দাম বেশি চাচ্ছে।”
সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দি গ্রামের কৃষক খয়বর হোসেনসহ (৫০) আরও অনেক কৃষক একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম ফেরদৌস বলেন, এবার বন্যা ১০ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ১৫ দিনের এ বন্যায় ১ লক্ষ ৮২ হাজারের বেশি কৃষকের ১৪ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়। তার মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ও আমন বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এর বাজার দাম ৯২ কোটি টাকার বেশি।
“বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বছর আমন চাষের লক্ষ্য ধরা হয়েছে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৭ হেক্টর। মঙ্গলবার পর্যন্ত রোপণ করা হয়েছে ৮৪ হাজার ৯১৬ হেক্টর। কিন্তু চারার অভাবে আমন রোপণের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে উঁচু এলাকার কিছু হাটবাজারে আমন চারা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দাম অনেক বেশি। আগে যেখানে প্রতি পন চারা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা ছিল, এখন তা ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”
কৃষি পুনর্বাসনে ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ১০০ একর জমিতে কমিউনিটি বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এই চারা দুই হাজার ৫০০ একর জমিতে রোপণ করা যাবে। প্রায় সাড়ে সাত হাজার কৃষককে এই চারা দেওয়া হবে। এছাড়া ৫৬টি ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। এ থেকে আট হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা যাবে।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমন চারা রোপণের উপযুক্ত সময় বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে গাঞ্জিয়া, নাজিরসাইল, গুটি স্বর্ণা জাতের ধান চাষ করলে ফলন ভাল পাওয়া যাবে।
তাছাড়া বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের মাষকালাইসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।