১০ বছর শেকলবন্দি পাবনার কিশোরী
পাবনায় এক কিশোরীকে প্রায় ১০ বছর ধরে গলায় ও পায়ে শেকল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।
জেলার নিমাইচরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন জানান, ধানকুনিয়া গ্রামের এই কিশোরীর মায়ের মৃত্যু হয় বছর ১৫ আগে তার জন্মের পরপরই। তার বাবা তাকে ফেলে চলে যান। কিশোরীর ঠাঁই হয় নিহত মায়ের দাদির জীর্ণ ঘরে।
“প্রায় ১০ বছর আগে সে অসুস্থ হয়। তার মায়ের বৃদ্ধ দাদি তার চিকিৎসা করাতে পারেননি। কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি তাকে শেকল পরিয়ে রেখেছেন।”
ওই বৃদ্ধাকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড ও কিশোরীকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়া হয়েছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, “এটা মোটেও যথেষ্ট না। সুস্থ অভিভাবক না থাকায় এই কিশোরী ও বৃদ্ধা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।”
এলাকাবাসী কিশোরীর বাবার খোঁজ জানে না বলে তিনি জানান।
কিশোরীকে শেকলবন্দি দেখে সমবয়সী প্রতিবেশী শিশুরা মানসিক চাপে রয়েছে বলে জানিয়েছে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রতিবেশী পাপিয়া খাতুন বলেন, “আমরা একই বয়সী। তাকে শেকলবন্দি দেখতে কষ্ট লাগে। এখনও যদি তার চিকিৎসা হয়, তাহলে আমরা আশা করি সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।”
ওই গ্রামের স্কুলশিক্ষক আব্দুল ওয়াহাবকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সত্যিই অমানবিক। তবু আমরা কেউই এত দিন খোঁজ নিই নাই। নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। দেখি কী করা যায়।”
বিত্তবানদের এগিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার বলেন, খবর পেয়ে তিনি গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। তার সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাও ছিলেন।
“দুই-এক দিনের মধ্যেই তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে। একই সঙ্গে তাদের বসবাসের ঘরও মেরামত করে দেওয়া হবে।”
