০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাজারে ডিমের দাম চড়া, ভোক্তার অস্বস্তি, খামারির ‘হা-হুতাশ’

একটি ডিম থেকে সাধারণত ৭৭ কিলোক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। ডিম খাওয়ায় উৎসাহ দিতে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বজুড়ে ডিম দিবস পালন করা হয়।

আয়েন উদ্দীন আয়েন উদ্দীন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 01:51 AM

Updated : 09 Oct 2026, 01:51 AM

ডিম কিনতে গিয়ে মানুষ দাম নিয়ে যখন অস্বস্তি প্রকাশ করছেন, সেই মুহূর্তে ডিম উৎপাদনের খরচ নিয়ে ‘হা-হুতাশ করে’ খামারিরা বলছেন তাদের লোকসানের কথা।

বাজারে মাসখানেক ধরে চড়ে আছে ডিমের দাম। সরকারি হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দর ৮ শতাংশ বেড়েছে। বিভিন্ন বাজার ও দোকানভেদে এ চিত্র ভিন্ন।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার প্রতি ডজন ডিমের সর্বোচ্চ দাম দেখানো হয়েছে ১৬২ টাকা। এক মাস আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ১৫০ টাকা। তবে পাড়া-মহল্লার খুচরা বাজারে বাদামি ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায়।

খামারিরা বলছেন, বৈরী আবহাওয়া, ফিড ও ওষুধের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয়, লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর চালানোর খরচ এবং বাজারের কারসাজিতে তাদের কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না। লোকসানের কথা জানিয়ে তারা বলছেন, উৎপাদন কমিয়ে খরচ সামলানোর চেষ্টা করছেন।

একটি ডিম থেকে সাধারণত ৭৭ কিলোক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। ডিম খাওয়ায় উৎসাহ দিতে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বজুড়ে ডিম দিবস পালন করা হয়।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি সংগঠনগুলোও দিবসটি পালন করে থাকে। তবে এ দিবস মনে না রাখলেও প্রায় প্রতিদিনই ডিম কেনার কথা মনে রাখতে হয় সবশ্রেণির মানুষের।

‘ছাইড়াও দিতে পারি না, ধইরা রাখলেও যাইতেছে’

বাদামি ডিম উৎপাদনে এক দিন বয়সের ১ হাজার লেয়ার মুরগির বাচ্চা ১৮০ দিন পালনের পর ডিম দেওয়ার উপযুক্ত হয়। এই ছয় মাস পর্যন্ত এ পরিমাণ মুরগি পালন করতে ‘সর্বনিম্ন ১২ লাখ টাকা’ খরচ হওয়ার কথা বলছেন বরিশালের উজিরপুরের খামারি আরিফুর রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এখন একটি শেড আছে। যেখানে ৬০ কেস (এক কেসে ৩০টি) ডিম হওয়ার কথা, সেখানে ডিম পাচ্ছি ৪৯ কেস। খাবারের মান ভালো না, বৈরী আবহাওয়া- সব মিলায়ে ডিম কম পাচ্ছি। কিন্তু পার পিসে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।”

১২ লাখ টাকা খরচের পর ১ হাজার মুরগি থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৮০০ ডিম সংগ্রহ করতে পারেন আরিফুর রহমান। বছর দেড়েক ডিম পাওয়া যায়।

আরিফুর রহমানের দাবি, “একটি ডিম পাড়া মুরগি প্রতিদিন সর্বনিম্ন ১৪০ গ্রাম খাবার খায়। প্রতি বস্তা খাবারের দাম সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা। সে হিসাবে ১৪০ গ্রাম খাবারের খরচ পড়ে ৮ টাকা ৪০ পয়সা। প্রতি ডিমে মেডিসিন খরচ সর্বনিম্ন ৮০ পয়সা। বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিক, পরিবহন, জেনারেটর ১ টাকা ৮০ পয়সার মতো খরচ হয়।”

এ খামারির হিসাবে একটি ডিম উৎপাদনে তার ১১ টাকার মত খরচ হয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য খরচ যোগ করলে প্রতি ডিমে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ে। খামারিদের দাবি, বর্তমান পাইকারি দামে ডিম বিক্রি করে তারা লোকসানে পড়ছেন।

আরিফুর বলেন, পাইকারিতে সবচেয়ে ভালো ‘এ’ গ্রেডের ডিম প্রতিটি ১০ টাকা ৭০ পয়সায় বিক্রি হয়। এরপর বি গ্রেড বিক্রি হয় ৩ টাকা কমে। আর সি গ্রেড আরও ৪ টাকা কমে বিক্রি হয়।

“যারা ডিমের দাম ফেলায় তারা একজনও খামারি না। একটু চোখে লাগার মতো ছোট হলেই ওই ডিমটা বি গ্রেডে নিয়ে যায়। এ গ্রেডের ডিমটা কই দেয় জানি না। বি গ্রেডেরটা ফুল রেইডে (পুরোদমে) মার্কেটে চলে।”

তার কথায়, “বাজারে ব্যাপক পরিমাণ লোকসানে আছি। এখন ছাইড়াও দিতে পারি না। ধইরা রাখলেও যাইতেছে। আমি চাইলেই তো একদিনের মধ্যে লক্ষ লক্ষ টাকা ছাইড়া দিতে পারি না।”

‘ফিডের বস্তায় ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে’

তিন ভাগে মুরগির খাবার বিক্রি হয় বাজারে। লেয়ার স্টার্টার (৬ সপ্তাহ পর্যন্ত বয়সের বাচ্চার খাবার), গ্রোয়ার (৭ থেকে ১৮ সপ্তাহ), প্রি-লেয়ার (ডিম দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্ত, সাধারণত ১৬-১৮ সপ্তাহ), লেয়ার লেয়ার-১ (মুরগি যখন থেকে ডিম পাড়া শুরু করে) ও ডিমের উৎপাদন স্তর। সবশেষ লেয়ার লেয়ার-২, ডিম উৎপাদনের শেষ পর্যায়ে এই খাবার দেওয়া হয়।

ঢাকার কেরাণীগঞ্জের আঁটিবাজারে মুরগির খাবারের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, স্টার্টার ৩ হাজার ৩৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকায়, গ্রোয়ার ৩ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৪৪০ টাকা ও লেয়ার-১ খাদ্য ৩ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আঁটিবাজারের ফিড বিক্রেতা দ্বীন ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত দুই মাসের মধ্যে বস্তায় ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ভুট্টার দাম কেজিতে প্রায় ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা হয়েছে। ডিলার শুধু বলে দাম বাড়ছে। বেশি দামে নিতে হবে।”

ভুট্টা বা চালের খুদ, সয়াবিন খৈল, রাইস পলিশ বা চাল ছাঁটাইয়ে পাওয়া মিহি গুঁড়ো মুরগির খাবার তৈরির প্রধান কাঁচামাল। এসব কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে মুরগির খাবারের দাম বাড়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (এফআইএবি) সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল হক।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পোল্ট্রি খাদ্যের (ফিড) প্রধান কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সয়াবিন মিল (খৈল) ও ডিওআরবির (চালের কুঁড়া থেকে তেল নিষ্কাশনের পর অবশিষ্ট অংশ) দাম ২০ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

“এ ছাড়া কিছু কিছু ফিড উপকরণের দাম প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে খামার ও ফিড কারখানার ওভারহেড খরচও (পরোক্ষ ব্যয়) বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ার প্রভাবে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং চলতি বছরে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।”

আনোয়ারুল হকের দাবি, “বাজারে ডিমের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৭ কোটি। বর্তমান সরবরাহ আছে সাড়ে ৬ কোটি। সেইসঙ্গে অতিমাত্রায় গরম ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেও ডিমের উৎপাদনে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

“একটি ডিমের দাম ১৪ থেকে ১৫ টাকা হলেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অথচ বাজারে এক কাপ সাধারণ দুধ চা ২০ টাকা, সিঙ্গারা ২০ টাকা, পান ১০ টাকা কিংবা একটি সিগারেট ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এশিয়ার কয়েকটি দেশ ছাড়া অন্যান্য দেশে এক ডজন ডিমের দাম প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। বাংলাদেশে এখনো তুলনামূলক অনেক কম দামে ডিম পাওয়া যাচ্ছে।”

বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট?

পোলট্রি খাতের অস্থিরতার কথা তুলে ধরে এর জন্য বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও বাজার কারসাজির দায় দিলেন বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি শিল্প রক্ষা অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মল্লিক।

পাঁচ শতাধিক প্রান্তিক খামারিকে নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনটির চেয়ারম্যানের অভিযোগ, “প্রান্তিক খামারিদের ডিম বাজারে আসার সময় কম দামে কিনে নেওয়া হয়। পরে তেজগাঁও সমিতির মাধ্যমে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করা হয়।

“আবার বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদিত মুরগি ও ডিম বাজারে আসার সময়ও নানা কৌশলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ কারণে মাসের একেক সময়ে মুরগি ও ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, আবার হঠাৎ কমে যায়।”

তার অভিযোগ, “বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (এফআইএবি) এবং কাজী ফার্মস, সিপি, প্যারাগন, নারিশসহ কয়েকটি বড় কিছু প্রতিষ্ঠান তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির মাধ্যমে ডিমের বাজারে প্রভাব বিস্তার করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে উৎপাদন ও সরবরাহের বিষয়ে পরিকল্পনা করে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সমন্বয় করে তারা কখন কী পরিমাণ মুরগি ও ডিম বাজারে ছাড়বে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে প্রান্তিক খামারিরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ‘তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির’ সভাপতি আমানত উল্লাহ বলেন, “সিন্ডিকেটের কোনো বিষয় এখানে নেই। যারা এগুলো বলছে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।

“আমরা যে দামে ডিম কিনি, সেই দামেই বাজারে বিক্রি করি। এককভাবে কারও পক্ষে ডিমের দাম নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপরই বাজারদর নির্ভর করে।”

সিন্ডিকেট ও ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ এর অভিযোগ বিষয়ে কাজী ফার্মসের পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসানের ফোন নম্বরে কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমানের মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।

ডিমে দাম না পেলে প্রান্তিক খামারিরা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি শিল্প রক্ষা অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম।

তার কথায়, “তখন পুরো বাজার করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। প্রান্তিক খামারিরা টিকে না থাকলে ভবিষ্যতে ডিম ও মুরগির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একচ্ছত্র প্রভাব তৈরি হতে পারে। তখন তারা যে দাম নির্ধারণ করবে, ভোক্তাদের সেই দামেই পণ্য কিনতে হতে পারে।

“প্রান্তিক ৫০ লাখ খামারিকে উচ্ছেদ করার পর তারা ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ এর মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে মুরগি ও ডিম উৎপাদন করছে। নিজস্ব বাচ্চা ও ফিড থাকায় বড় কোম্পানিগুলো ১০০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার বিক্রি করলেও তাদের কেজিতে অন্তত ১০ টাকা লাভ থাকে। বড় কোম্পানিগুলো বাজারে প্যাকেটজাত বা ফ্রোজেন প্রসেসড মাংস ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি এবং ডিম হালি ১০০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি করে দেশের মূল প্রোটিন সরবরাহ পুরোপুরি কবজা করার পরিকল্পনা করছে।”

‘তারা চাইলে দাম কমিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে’

ময়মনসিংহে ডিম ও মুরগি উৎপাদন করেন ইউসুফ আলী। এ খামারির অভিযোগ, “কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বাচ্চা কিনতে হলে তাদের উৎপাদিত খাদ্যও কিনতে বাধ্য করা হয়। খাদ্যের গুণগত মান খারাপ হলেও খামারিরা তা পরিবর্তন করতে পারে না। ফলে ছোট-মাঝারি খাদ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোও বিপদে পড়ছে।”

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত এক বছর ডিমের দাম কম ছিল। কিন্তু ফিডের দাম কমে নাই। উৎপাদন খরচ কমে নাই। কিন্তু ডিম বিক্রি করতে হয়েছে।”

তার ভাষ্য, “দুই মাসের ব্যবধানে ফিড খুচরায় ২০ থেকে ৩০ টাকা দাম বাড়ার কারণ হল সিন্ডিকেটের কারসাজি। ডিমের উৎপাদন বাড়েও নাই, কমে নাই। আগে ফিড কম দামে কিনে গুদাম করেছে। এখন বেশি দামে বিক্রি করছে। বাজারে দাম উঠা নামার কারণ হল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সরিয়ে দেওয়া। বড়রা ইচ্ছে করে লস করে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়ে আবার দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা টিকে থাকতে পারছেন না।”

তেজগাঁও ডিম সমিতি নিয়ে অভিযোগ বিপিএ সভাপতিরও। তার কথায়, “এই ডিমের সিন্ডিকেটের কথা যদি বলেন, তাদের ক্ষেত্রে অন্যতম হল তেজগাঁও ডিম সমিতি। বড় কোম্পানির আশকারায় তেজগাঁও ডিম সমিতি চলে, তারা তাদের মতো ব্যবসা করে। তারা প্রতিদিন এসএমএসের মাধ্যমে দাম ঘোষণা, সেটাই বাজারে বাস্তবায়িত হয়। তারা চাইলে দাম কমিয়ে দিতে পারে, চাইলে বাড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু আমরা যারা ডিম উৎপাদন করি তাদের উৎপাদন খরচ কমছে না।”

সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নেতা আমানত উল্লাহ বলেন, “এখন বাজারে একশ ডিম ১ হাজার ৯০ টাকায় পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম এখন কিছুটা বাড়তি, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

“তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে। আশা করছি, সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই দাম কমতে পারে।”

যোগসাজশের মাধ্যমে ডিমের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় গত বছর পিপলস পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডকে ৭২ লাখ টাকা জরিমানা করে প্রতিযোগিতা কমিশন।

ওই মামলার রায়ে বলা হয়, পিপলস পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি ডিম ব্যবসায়ীদের ডিম আনতে গাড়ি পাঠানোর পর মেসেজের মাধ্যমে বাজার দরের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ পয়সা বেশি দামে প্রতিটি ডিমের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করত। সমজাতীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে এ মূল্য নির্ধারণ করা হত।

এভাবে ডিমের দাম বৃদ্ধির অভিযোগে আরেকটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও শুনানি চলছে প্রতিযোগিতা কমিশনে।

ডিমের বাজারে অস্থিরতার পেছনে কয়েকটি সিন্ডিকেট গ্রুপ কাজ করছে বলে মনে করেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন।

তিনি বলেন, “এর মধ্যে পাইকারি ব্যবসায়ী ও কিছু বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশে এমন বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি যার কারণে ডিমের দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ার কথা।”

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে ডিমের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে দেখানোরও বিরোধিতা করে নাজের হোসাইন বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে কিছুদিন আগে। কিন্তু ডিমের দাম বাড়ার প্রবণতা এক মাস ধরেই দেখা যাচ্ছে। তাই শুধু জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে এর কারণ হিসেবে দেখানো যৌক্তিক নয়।”

বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত মনিটরিং জোরদার, মজুত ও কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং উৎপাদক পর্যায়ে সহায়তা বাড়ানোর দাবি করেন তিনি।