Published : 19 Apr 2017, 07:56 PM
বুধবার চাটমোহর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান এ কথা জানান।
প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর গ্রামে।
কমিশনার মিজানুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে প্রমথ চৌধুরীর তিন একর বসতভিটা থেকে অবৈধ ১৮টি ঘরসহ বেশ কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ উচ্ছেদ করা হয়।”
ওই জায়গায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য এলাকাবাসীর দাবির বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে বলে জানান তিনি।প্রমথ চৌধুরী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রভাষক ইকবাল কবির রঞ্জু বলেন, “দীর্ঘদিন আন্দোলনের পর জায়গাটি দখলমুক্ত হওয়ায় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ওই জায়গায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ অগাস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস করে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে দর্শনে অনার্সসহ বিএ এবং ইংরেজিতে এমএ পাস করেন। যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টার হওয়ার পর কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসায়ে যোগদান করেন। তবে আইন পেশায় তিনি বেশিদিন যুক্ত থাকেননি।
১৮৯৯ সালে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেয়ে ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন তিনি। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আইন কলেজে কিছুকাল অধ্যাপনা করেন এবং ঠাকুর এস্টেটের ম্যানেজার ছিলেন।১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তার এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়। তার সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো বিশ্বভারতী, রূপ ও রীতি এবং অলকা।
তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে তেল-নুন-লাকড়ি, সনেট পঞ্চাশৎ, চার-ইয়ারি কথা, বীরবলের হালখাতা, পদচারণ, রায়তের কথা, নীললোহিত, ও আত্মকথা ইত্যাদি।
১৯৪৬ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে তার মৃত্যু হয়।