২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় অপহরণ ও দেশে টাকা আদায়, আটক ৭

মালয়েশিয়ায় ঢাকার এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে দেশে তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে নারীসহ সাত জনকে আটক করেছে র‌্যাব।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2015, 09:37 PM

Updated : 26 Jul 2022, 12:04 PM

মুক্তিপণের ২৮ লাখ টাকার মধ্যে আটকদের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

শুক্রবার র‌্যাব-১১ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্র্রিফ্রিংয়ে এই তথ্য জানান অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান।

অপহৃত ফয়েজ আহম্মেদ (৬৬) ঢাকার দক্ষিণ খান এলাকার ব্যবসায়ী।

আটকরা হলেন অপহরণকারী দলের হোতা লোকমানের স্ত্রী শাকিলা আক্তার, বোন আলেয়া বেগম, ভগ্নিপতি আবুল কালাম আজাদ, ভাগ্নে আল আমিন আসিফ, উকিল ভাই আব্দুল্লাহ, সহযোগী জনির মা মাহমুদা পারভীন ও হুন্ডি ব্যবসায়ী মো. আওলাদ হোসেন।

প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে জানানো হয়, গত ২৩ জুলাই ফয়েজ আহম্মেদ মালয়েশিয়া গেলে তাকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে আটকে রাখে অপহরকারীদের হোতা লোকমান ও তার সহযোগী জনি এবং স্থানীয় এক ব্যক্তি।

১৭ দিন পর অপহরণকারীরা বাংলাদেশে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ হিসেবে এক কোটি টাকা দাবি করে।

এই ঘটনায় ফয়েজ আহম্মেদের পরিবার দক্ষিণ খান থানায় জিডি করেন।

এরপর অপহরণকারীদের চাপের মুখে নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নম্বর রেলগেইট এলাকায় লোকমানের স্ত্রী শাকিলার কাছে ১৩ লাখ টাকা দেন ফয়েজের স্বজনরা।

কিন্তু অপহরণকারী আরও ৫০ লাখ টাকার দাবি করলে চাপের মুখে দুই দফায় লোকমানের বোন আলেয়ার উকিল ভাই আব্দুল্লাহর ব্যাংক একাউন্টে আরও ১৫ লাখ টাকা দেন।

মুক্তিপণের ২৮ লাখ টাকা আদায়ের পর গত ১৮ অগাস্ট ফয়েজ আহম্মেদকে ছেড়ে দেয়। পরদিন তিনি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন।

মালয়েশিয়ায় আটক থাকা অবস্থায় তার উপর নির্যাতন চালানো হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গত রোববার (১৬ অগাস্ট) অপহৃতের পরিবার র‌্যাব-১১ এর কার্যালয়ে এসে অপহরণের বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করে।

এরপর র‌্যাব-১১ সদস্যরা গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সীগঞ্জ থেকে অপহরণকারীদের হোতা লোকমান হোসেনের স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজনসহ সাত জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারদের ব্যাংক একাউন্ট থেকে ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৮১৪ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ছয়টি পাসপোর্ট ও কিছু সার্টিফিকেটও উদ্ধার করে। এর মধ্যে ২টি পার্সপোর্ট লোকমানের, ১টি শাকিলার ও ৩টি অন্য ব্যক্তিদের।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন সেট, ১১টি সিম কার্ড, ক্রেডিড কার্ড ও ব্যাংকের চেক বইসহ অন্যান্য কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা লতিফ খান আরও জানান, অপহরণের শিকার ফয়েজ আহমেদ ব্যবসায়িক কাজে দুই বছর ধরে নিয়মিত মায়েশিয়া যাতায়াত করেছেন। অপহৃতরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে অনুসরণ করে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে এ ঘটনা ঘটায়।

“তবে, অপহরণকারী লোকমান হোসেন, ফখরুদ্দীন আলী আহমেদ জনি ও মো. শরিফ এখন মায়েশিয়ায় পলাতক রয়েছে।”

আটকদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।