Published : 04 Jun 2026, 07:20 PM
নীলফামারী সদর উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে আটটি পরিবারের অন্তত ১৩টি ঘর পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছেন দুইজন।
বুধবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নীলফামারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মামুন-উর রশিদ।
আগুনে ১১টি বসতঘর, দুটি গোয়ালঘর, একটি মোটরসাইকেল, টেলিভিশন, ফ্রিজ, আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, ধান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। এ ছাড়া ১২টি গরু, একটি ছাগল এবং বেশ কিছু হাঁস-মুরগিও আগুনে মারা যায়।
দগ্ধ লিটন আলী ও জুয়েল ইসলাম নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুন্দপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাজ্জাত আলম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে এবং তাদের সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, রাত ৩টার দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। চারপাশে ধানের খড় থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় আশপাশের আরও অন্তত ২০টি পরিবার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মামুন-উর রশিদ বলেন, “আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গোয়ালঘরে রাখা কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।”
বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা জায়গায় অবস্থান করছে। আগুনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বইপত্র ও শিক্ষাসামগ্রী পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত লিটন আলী বলেন, “রাতে হঠাৎ করে আগুন লাগলে চারিদিকে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিস আসতে আসতে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। বাচ্চার বই, সার্টিফিকেট টাকা-পয়সা, মোটরসাইকেল, ছয়টি গরু, আসবাবপত্র সবই পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধন আলী বলেন, “আগুনের সময় কোনো কিছু সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাইনি। ঘরবাড়ি ও মালামাল সব পুড়ে গেছে।