১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নোয়াখালী দুর্ঘটনা: ‘চালকের চোখে ছিল ঘুম, খালে পড়ে লক না খুলেই পালান’

ওমান থেকে আসা বাহার উদ্দিনকে আনতে ঢাকায় গিয়েছিলেন ১১ স্বজন। কিন্তু ফেরার পথে মাইক্রোবাস খালে পড়ে প্রাণ যায় সাতজনের।

নোয়াখালী দুর্ঘটনা: ‘চালকের চোখে ছিল ঘুম, খালে পড়ে লক না খুলেই পালান’
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী এলাকার কাশারি বাড়িতে নিহতদের স্বজনদের ভিড়।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2025, 02:11 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:31 PM

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে খালে পড়ে যাওয়া মাইক্রোবাস থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীদের অভিযোগ চালকের খামখেয়ালিতেই সাত স্বজনকে হারিয়েছেন তারা।

তাদের অভিযোগ, বার বার বলা স্বত্তেও বিশ্রাম না নিয়ে ঘুম চোখে মাইক্রোবাস চালাচ্ছিলেন চালক রাসেল। পরে গাড়িটি খালে পড়ে গেলেও দরজার লক খুলে না দিয়ে নিজে জানালা গলে পালিয়ে যান তিনি। 

বুধবার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী এলাকার কাশারি বাড়িতে আহাজারি করতে করতে এমন অভিযোগ করছিলেন ওমান প্রবাসী বাহার উদ্দিন, তার বাবা আব্দুর রহিমসহ অন্যরা। 

একসঙ্গে পরিবারের সাত জনকে হারিয়ে বাড়িটি জুড়ে চলছে শোকের মাতম। কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে স্বজনদের। শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন প্রতিবেশীরাও।

স্বজনরা জানান, ওমান প্রবাসী বাহার উদ্দিন আড়াই বছর পর দেশে ফিরছেন, তাই বাড়িতে ছিল উৎসবের আমেজ।  

মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে বাড়ি নিয়ে আসতে মাইক্রোবাস নিয়ে রাজধানীতে যান পরিবারের ১১ সদস্য। পরে বাহারসহ ১২ জন মাইক্রোবাসে বাড়ির পথে রওয়ানা হন। 

কিন্তু বুধবার ভোরে বাড়ি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার আগে নোয়াখালী বেগমগঞ্জের আলাইয়াপুর ইউনিয়নের পূর্ব বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের সড়কের পাশের খালে পড়ে যায় তাদের গাড়িটি। 

বাহার উদ্দিন বলেন, মাইক্রোবাসের চালক রাসেল ঘুম চোখে নিয়েই গাড়ি চালাচ্ছিল। তা খেয়াল করায় কয়েকবারই তাকে গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি।

এর মধ্যে একবার কুমিল্লায় দুর্ঘটনায় পড়তে পড়তে বেঁচে যান তারা। শেষ পর্যন্ত গাড়িটি সড়কের পাশে খালে ফেলে দেন ঘুমন্ত চালক।

বাহার উদ্দিনের বাবা আব্দুর রহিম বলেন, গাড়িটি খালে পড়ে গেলেও তাৎক্ষণিক ডুবেনি, ধীরে ধীরে ডুবছিল। তখন তারা চালককে গাড়ির লক খুলতে বললেও চালক খুলে দেয়নি। 

“সে নিজে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে বের হয়ে পালিয়ে যায়। কাউকে বাঁচানোর চেষ্টাও করেনি।” 

একপর্যায়ে ডুবতে থাকা গাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন বাহার, আব্দুর রহিম, বাহারের শ্বশুর ইস্কান্দার মীর্জা, ভাবী সুইটি ও শ্যালক রিয়াজ।  

তবে বের হতে পারেননি বাহারের স্ত্রী কবিতা আক্তার (২৪), মেয়ে মীম আক্তার (২), মা মুরশিদা বেগম (৫০), নানী ফয়জুন নেছা (৭০), ভাতিজি রেশমা আক্তার (৯), লামিয়া আক্তার (৮) ও বড় ভাইয়ের স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৫)। 

চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, চালক ঘুমিয়ে পড়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়। 

কয়েকজন বের হতে পারলেও সাতজন ভেতরে আটকা পড়ে মারা যান। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনরা সেগুলো বাড়িতে নিয়ে গেছেন বলে জানান ওসি। 

ওসি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। 

আগের সংবাদ

নোয়াখালীতে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে৭ জনের মৃত্যু