Published : 17 May 2024, 12:00 AM
গোপালগঞ্জে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় একজনের মৃত্যুর প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জের চন্দ্রদিঘলিয়া বাসস্ট্যান্ডে এলাকাবাসী এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের অনুরোধে বেলা ১টায় অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপালগঞ্জ সদরের চন্দ্রদিঘলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট ওসিকুর ভূঁইয়া। আহত হন আরও ৫ জন।
এই হত্যার বিচারের দাবিতে বুধবার দুপুরে জেলা শহরে শোক র্যালি করেন চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের হাজার হাজার লোক। র্যালি শেষে দুপুর ১টায় তারা চেচানিয়াকান্দিতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
পরে দুপুর ২টার দিকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এলাকাবাসী। এসময় তারা ওসিকুরকে হত্যার বিচারের দাবিতে সড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করেন।
পরে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচিতে যোগ দেয় গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী। এতে আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে ওঠে।
এ সময়ে মহাসড়কের উভয় পাশে তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দূরপাল্লার যানবাহন আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ছবেদ আলী ভুঁইয়া তার বক্তব্য বলেন, “বুধবার চেচানিয়াকান্দিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের ৩৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসন কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
“এজন্য বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টা থেকে দাবি আদায়ের উদ্দেশ্য সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছি।”
নিহত ওসিকুরের মা জবেদা বেগম (৬৭) বলেন, “আমার ওসিকুরের ৪ মাসের ছেলেকে যারা এতিম করল তাদের ফাঁসি চাই। এতিম বাচ্চা কীভাবে বাচঁবে। আমার ছেলের খুনিদের পুলিশ গ্রেপ্তার না করলে আমি বাড়ি ফিরব না।”
সমাবেশে উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএম লিয়াকত আলি বলেন, “ওসিকুর ভুঁইয়া ছিলেন আমার নির্বাচনী এজেন্ট। তাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করে আমার প্রতিপক্ষ।
“নিহত ওসিকুরের ছোট একটি ছেলে। কি অপরাধ ছিল ওসিকুরের। কেন আজ তার সন্তান এতিম হলো। তার স্ত্রী ও মা-বোনকে কী জবাব দিব?”
তিনি আরও বলেন, “গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ভাইয়ের নির্দেশে আজ অবরোধ তুলে নিলাম। তবে দোষীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
তিনি এ সময় প্রশাসনের প্রতি ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এতে ব্যর্থ হলে রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান।
যা বললেন বিজয়ী প্রার্থী
এদিকে, চন্দ্রদিঘলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী কামরুজ্জামান লুটুল।
তিনি বলেন, “৮ মে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সুষ্ঠু স্বচ্ছ ভোটের মাধ্যমে জনগণ আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘গোপালগঞ্জ জেলায় প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক নির্দেশনায় স্বচ্ছ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে’।”
“নির্বাচনের পরে আমার নির্বাচনী বিভিন্ন এলাকায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। ১০ মে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় গেলে আমি দিনব্যাপী সেখানেই সময় দিয়েছি। ১২ মে রাতে ব্যবসায়িক কাজে আমি ঢাকায় চলে আসি। এর মধ্যে গোপালগঞ্জে নির্বাচন পরবর্তী কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “কিন্তু অতি দুঃখের বিষয়, গত ১৪ মে আমার নিজ গ্রামে মুরব্বিদের সামনে ধূমপান করাকে কেন্দ্র দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
“আমি জানতে পারি একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে সেই বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। কারণ এতে করে প্রকৃত ঘটনা আড়ালে পড়ে যেতে পারে। ”
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, একইসঙ্গে প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
ওই দিন তার নির্বাচনী অফিস, বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে দাবি করে এ ব্যাপারে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান।