১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

শিশু মৃত্যু: নোয়াখালীতে চক্ষু হাসপাতালের এমডি কারাগারে, তদন্ত কমিটি

আবুল হোসেনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিডিনিউজ২৪

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Sep 2026, 11:37 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

নোয়াখালীর মাইজদী শহরে বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে ১৩ বছরের শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

রোববার বিকালে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেনকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান থানার ওসি নজরুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহারের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছিল। পরিবার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় আবুল হোসেনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে পরিবার মামলা করতে পারবে। 

স্বজনদের ভাষ্য, শনিবার বিকালে শিশু মো. মোসলেম সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় চোখে আঘাত পায়। চোখের কোণে রক্ত জমে ফুলে উঠলে তাকে দত্তেরহাটের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়।  

হাসপাতালে নেওয়ার পর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান এবং তার চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে।  

অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে আবুল হোসেন শিশুটিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং সটকে পড়ার চেষ্টা করেন। 

তবে স্বজনরা তাকেসহ শিশুটিকে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। মোসলেম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে।

শনিবার রাতেই সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন হাসপাতালটি পরিদর্শন করে কাউকে না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেন।  

এ ঘটনা তদন্তে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। 

নোয়াখালীর সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন বলেন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।  

কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ হাসনাত জাকি চৌধুরী এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা ফাত্তাহেল আলীম।

২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রাজিব আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, বিকালে মোসলেমের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  

আরও পড়ুন:

বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে শিশুর মৃত্যুহাসপাতাল ছেড়ে পালাল সবাই