Published : 06 Sep 2026, 11:02 AM
নোয়াখালী সদর উপজেলায় একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসায়’ এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরে সিভিল সার্জন গিয়ে কাউকে না পেয়ে হাসপাতালটি বন্ধ করে দিয়েছেন।
তবে রোগী ও তার স্বজনদের সঙ্গে থাকায় পালাতে পারেননি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শিশুটির সার্জারি করা আবুল হোসেন।
শনিবার রাতে নোয়াখালী পৌরসভার দত্তেরহাটে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সুধারাম মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম।
পুলিশ হেফাজতে থাকা আবুল হোসেনের দাবি তিনি ডিপ্লোমাধারী সিনিয়র অপটোমেট্রিস্ট।
যদিও অপটোমেট্রিস্টরা চোখের পরীক্ষা ও সাধারণ চশমার প্রেসক্রিপশন দিতে পারলেও সার্জারি করতে পারেন না বলে জানিয়েছেন নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন।
এছাড়া হাসপাতালটি আগেও একবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলার সদ্যবিদায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাইমা নুসরাত জাবীন।
তিনি বলেন, নানা অনিয়ম পাওয়ায় ২০২৪ সালের ৮ জুন অভিযান চালিয়ে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
মারা যাওয়া ১৩ বছর বয়সি মো. মোসলেম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। এটি নোয়াখালী-লক্ষীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা।
শিশুটির স্বজনরা জানিয়েছেন, শনিবার বিকেলে মোসলেম সমবয়সীদের সঙ্গে খেলা করার সময় এক শিশু তার চোখে আঘাত করে। এতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে উঠে।
মোসলেমের বাবা-মা তাকে দ্রুত স্থানীয় চেউয়াখালী বাজারে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। জখম গুরুতর হওয়ায় পল্লী চিকিৎসক শিশুটিকে চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
স্বজনদের অভিযোগ, এরপর শিশুটিকে দত্তেরহাটের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে ‘বড় ডাক্তার’ আসছে বলে তাদেরকে প্রায় ৩০ মিনিট বসিয়ে রাখা হয়।
পরে ‘বড় ডাক্তার’ আবুল হোসেন এসে শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। এরপর তিনি শিশুটির চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর পরপরই শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বেরিয়ে আসে এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে।
তখন আবুল হোসেন শিশুটিকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরে পড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিশুটির স্বজনরা আবুল হোসেনসহ ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে ১৩ বছরের একটি শিশুকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। সে কি কারণে মারা গেছে জানা নেই।”
এ বিষয়ে আবুল হোসেন বলেন, “শিশুটির চোখের উপরের পাতা ও নিচের পাতা বেশ ফোলা ছিল। ভেতরের কর্ণিয়া চেক করার জন্য তার চোখের আপার লিড, লোয়ার লিডে ‘জেসোকেইন’ ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। এটা চোখ অবশ করার জন্য দেওয়া হয়।
“তবে, এটা দেওয়ার আগে শিশুটি বমি করে। এরপরই শিশুটির খিছুনি আসে। খিছুনি আসলে আমরা তাকে সদরের দিকে নিয়ে আসি।”
নোয়াখালী সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন বলেন, “নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পরপরই আমি দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শন করি। এ সময় হাসপাতালে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ”
তিনি আরও বলেন, “শিশুটির পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয় খতিয়ে দেখব এবং তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সুধারাম মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিতে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।