১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাগরে এক খেয়ায় ধরা পড়ল ৪৬ মণ ইলিশ

পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য বন্দরের আড়তে ডাকের মাধ্যমে এসব ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Aug 2026, 03:23 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক খেয়ায় ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ। আড়তে ডাকের মাধ্যমে এসব ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

শুক্রবার দুপুরে ওই জেলের ট্রলারটি মাছ নিয়ে পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের একটি ট্রলারে আলমগীর মাঝির জালে এই বিপুল ইলিশ ধরা পড়ে।

ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, “প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছি। একবার জাল ফেলতেই প্রায় দুই হাজার ২০০ পিস ইলিশ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিনের লোকসানের পর এমন মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি। তার পরে মাছের সাইজও অনেক বড়।”

পরে মৎস্য বন্দরের মনোয়ারা ফিশ আড়তে ডাকের মাধ্যমে রুপালী মাছগুলো বিক্রি করা হয় এবং বরফজাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানের আড়তে পাঠানো হয়েছে।

মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির বলেন, “দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। সাইজও ভাল। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দাম অনেক বেশি থাকায় জেলেরা ভালো মূল্য পেয়েছেন। সচরাচর এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না।”

আড়ত কর্মীরা জানান, ধরা পড়া মাছের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ছিল ২৪ মণ। 

সেগুলো প্রতি কেজি পাইকারি দুই হাজার ৮৭৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। অর্থাৎ প্রতি মণ এক লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। 

এ ছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। প্রতি কেজি ২ হাজার ৩৭৫ টাকা হারে মণ প্রতি ৯৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ পাইকারীতে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানান মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির। 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, এখনই মূলত ইলিশ ধরা পড়ার মৌসুম।এ সময় ইলিশ ঝাকে ঝাকে চলে এবং মিঠা পানির দিকে ধাবিত হয়। যখন জেলেরা জাল ফেলে তখন যদি কোনো ইলিশের ঝাক সেখানে চলতে থাকে তাহলে জেলের জালে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে।

আর যখনই ইলিশ বিক্ষিপ্ত ভাবে চলাচল করে তখন জেলের জালে কম পরিমান ইলিশ ধরা পড়ে। 

বিজন নন্দী বলেন, “যেসব জেলের জালে ইলিশের ঝাঁক ধরা পড়ছে তারা ভাগ্যবান। তেমনি একটি ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ এটি ওই জেলের জন্য আশির্বাদ।”

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কিছু দিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা চলছিল। অতিবৃষ্টির কারনে সাগরে মিষ্টি পানির প্রবণতা থাকায় বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও বেশি ইলিশ মিলতে পারে।”

এতে জেলে, আড়তদারসহ ইলিশ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন বলে জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।

বেসরকারি সংস্থার ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার ট্রলারেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে পাচ্ছে না। তবে এরই মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর এবং জেলেদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।”

তিনি বলেন, “তবে একদিনের এই বেশি আহরণকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।”

ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।