Published : 17 May 2025, 03:00 PM
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় পড়ালেখায় অমনোযোগী হওয়ায় অভিযোগে আট বছরে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বেত্রাঘাত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওটির মধ্যে ২৩ সেকেন্ডে শিশুটিকে ২১ বার বেত্রাঘাত করা হয়েছে। ভিডিও ভাইরালের পর থেকে ওই শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।
শনিবার এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় যোগাযোগ করেছেন বলে জানান লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. আবদুল মোন্নাফ।
উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের আলীপুর নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ওই ছাত্রকে বেত্রাঘাতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ওই শিক্ষক নিজেই ভিডিওটি ধারণ করেন; যা বৃহস্পতিবার ফেইসবুকে ছড়ায়।
বেত্রাঘাত করা শিক্ষক মো. মাসুম সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের কালভার্ট এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় তাকে মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুর পর্যন্ত মাসুমের কোনো সন্ধান দিতে পারেনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিডিওটি ভাইরালের দু-এক দিন আগে ঘটনাটি ঘটেছে। শিক্ষক মাসুম নিজেই ভিডিওটি করিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভিডিওটি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তিনি মাদ্রাসায় যান না। তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ওই ছাত্রকে বেত্রাঘাতের ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। আইনজীবী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন ভিডিওটি সংগ্রহ করে ফেইসবুকে পোস্ট করে ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন।
ভিডিওটি ভাইরালের দুই দিন আগে মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরের আল মুঈন একাডেমিতে কোরআন শরীফের ২০ পারা মুখস্থ করা আট বছরের ছাত্র সানিম হোসাইনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। একের পর এক নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন অভিভাবকসহ স্থানীয়রা।
৩৫ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রথম ২৩ সেকেন্ডে শিশুটিকে ২১ বার বেত দিয়ে আঘাত করা হয়। পুরো ভিডিওটিতেই শিশুটি কানে ধরে ছিল। এ সময় শিক্ষক শিশুটিকে মারতে মারতে কান ধরে ওঠবস করতে বলেন। তাতেও থামেনি মারধর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ছাত্রকে মারধরের ঘটনা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ স্থানীয়ভাবে সমাধান করেছেন। এ কারণে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থায় নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে নির্যাতনের শিকার শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
মারধরের ঘটনায় জড়িত শিক্ষক মাসুমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
নাম গোপন রাখা শর্তে দুই শিক্ষক জানান, ১২ মে ঘটনাটি ঘটেছে। শিশুটি পড়ালেখায় অমনোযোগী থাকায় মাসুম তাকে শাস্তি দিয়েছেন। মাসুম নিজেই অন্য এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে ভিডিও করিয়েছেন। তবে ভিডিওটি কীভাবে ফেইসবুকে ছড়িয়েছে তা বলতে পারেনি কেউ।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি আজমুল হুদা মিঠু বলেন, “শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় যোগাযোগ করা হয়েছে। আমরা তাকে চাকিচ্যুত করেছি। বেত্রাঘাতের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তিনি মাদ্রাসায় অনুপস্থিত।”
ওসি আবদুল মোন্নাফ বলেন, ঘটনাটি অমানবিক। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।