Published : 05 Aug 2026, 05:15 PM
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে নেত্রকোণার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে থানায় মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের। মামলায় রিপন মিয়া ছাড়াও অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, শনিবার রাতে রিপন মিয়া তাদের বাড়িতে যান। তখন ওই স্কুলছাত্রী বাড়ির উঠানে রান্না করছিল। তার বাবা স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকানে এবং মা কাজে বাইরে ছিলেন।
এ সময় ওই ছাত্রীকে জোর করে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন রিপন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে রিপন মিয়া পালিয়ে যান।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সালিস বসে।
পরিবারের দাবি, সেখানে রিপন মিয়া অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
ছড়িয়ে পড়া সালিসের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন মিয়া অভিযোগ স্বীকার করে সেখানে থাকা উপস্থিত লোকজনের কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’
কথার এক পর্যায়ে তিনি বিএনপির এক নেতার পা ধরে মাফ চান। ওই নেতা বিগত কমিটিতে পদে ছিলেন।
এদিকে সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে। মঙ্লবার সকালে পুলিশ এলাকায় গিয়ে রিপন মিয়া ও সালিসে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের কাউকে পায়নি।
পরে স্কুলছাত্রীর বাবা-মাকে থানায় এনে অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।
তবে এখনও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি ওসি আবুল খায়ের বলেন, মামলা গ্রহণের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কাঠমিস্ত্রির কাজ করা রিপন মিয়া ‘হাই, আই এম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’- এ ধরনের সংলাপের ভিডিও দিয়ে পরিচিতি পান। ‘রিপন মিয়া’ নামে তার একটি ফেইসবুক পেজ রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৯ লাখ ফলোয়ার রয়েছে।
আগের সংবাদ
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ, সালিস