Published : 04 Aug 2026, 11:09 PM
নেত্রকোণার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের পর থানায় না গিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল।
সেই সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে। ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেন রিপন মিয়া। তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
একই সঙ্গে স্কুলছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাতে সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
ওসি বলেন, সকালে পুলিশ এলাকায় গিয়ে রিপন মিয়া ও সালিসে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের কাউকে পায়নি। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।
এদিকে স্কুলছাত্রীর বাবা-মাকে থানায় এনে অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, শনিবার রাতে রিপন মিয়া তাদের বাড়িতে যান। তখন ওই স্কুলছাত্রী বাড়ির উঠানে রান্না করছিল। তার বাবা স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকানে এবং মা কাজে বাইরে ছিলেন। এ সময় ওই ছাত্রীকে জোর করে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন রিপন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে রিপন মিয়া পালিয়ে যান।
পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সালিস বসে।
পরিবারের দাবি, সেখানে রিপন মিয়া অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
ছড়িয়ে পড়া সালিসের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন মিয়া অভিযোগ স্বীকার করে সেখানে থাকা উপস্থিত লোকজনের কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’
কথার এক পর্যায়ে তিনি বিএনপির এক নেতার পা ধরে মাফ চান। ওই নেতা বিগত কমিটিতে পদে ছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রিপন মিয়া এবং ওই বিএনপি নেতার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
ওসি আবুল খায়ের বলেন, মামলা গ্রহণের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রিপন মিয়াকে আটকের চেষ্টা চলছে।
কাঠমিস্ত্রির কাজ করা রিপন মিয়া ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’- এ ধরনের সংলাপের ভিডিও দিয়ে পরিচিতি পান। তার ‘রিপন মিয়া’ নামে একটি ফেইসবুক পেজ রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৯ লাখ ফলোয়ার রয়েছে।