শীতে স্থবির কুড়িগ্রামে খেটে খাওয়া মানুষের ভোগান্তি
“ঠান্ডার কারণে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারি না, কাজকর্ম ঠিক মতো হয় না।”
কুড়িগ্রামে কয়েকদিনে শীত ও ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে করে নিম্ন ও দরিদ্র আয়ের মানুষরা পড়েছেন বিপাকে। বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।
রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি। গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের দেখা মিললেও তা স্থায়ী হচ্ছে না।
শুক্রবার সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামে সবনিম্ন তাপমাত্রা ৯ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান।
রাজারহাট সদর উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রুবেল মিয়া বলেন, “শীতের কারণে আমি সকাল বেলা রিকশা নিয়ে বের হতে পারিনি। আয় কমে যাওয়ায় সংসারে অভাব লেগেই আছে।”
মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা কুড়িগ্রামে সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বাবু মিয়াও বিপাকে পড়েছেন প্রচণ্ড ঠান্ডায় কাজে যেতে না পেরে।
বাবু বলছিলেন, “আমি বিলে ও নদীতে মাছ ধরে জিবীকা নির্বাহ করি। শীতের কারণে কয়েকদিন থেকে ঠিক মতো মাছ ধরতে পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে সংসার চালাতে।”
সদর উপজেলা যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগার চরের মিন্টু মিয়া বলেন, “ঠান্ডার কারণে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারি না, কাজকর্ম ঠিক মতো হয় না।”
একই এলাকার রহমত বলছিলেন, “ঠান্ডায় কাজ না করলে পেটে ভাত যায় না। কাজে গেলে হাত-পা জ্বালাপোঁড়া করে, ঠিকমতো কাজ করতে পারি না। রাতে ঘুমও ঠিক মতো হয় না।”
এদিকে শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শীতজনিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে এ অঞ্চলে।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খায়রুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত ঠান্ডায় আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডাইরিয়া শুরু হয়েছে।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার নয় উপজেলায় যথাযথভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকতা আব্দুল মতিন জানান, নয়টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে।
