শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন: শরীয়তপুরে আদালত চত্বরে ৩ আইনজীবীকে মারধর
বিএনপির মিছিল থেকে একদল লোক হামলা ও চেম্বার ভাঙচুর করে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করায় শরীয়তপুরে তিন আইনজীবীকে মারধর ও চেম্বার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন পালং মডেল থানার ওসি মো. শাহ আলম।
মারধরের শিকার আইনজীবীরা হলেন- সানোয়ার মল্লিক, শাহীন খান এবং তানিয়া সুলতানা। তারা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দুই দিন আগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবী। এর প্রতিবাদে দুপুরে আদালত চত্বরে মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিলে নেতৃত্ব দেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ ওরফে টিপু মাদবর।
অভিযোগ রয়েছে, মিছিলের এক পর্যায়ে আইনজীবী সানোয়ার মল্লিককে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিঁড়িতে মারধর করা হয়। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে আদালত ভবনের সামনে নিয়ে আবার মারধর করা হয়।
সানোয়ার মল্লিকের অভিযোগ, “শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে দুই দিন আগে কয়েকজন আইনজীবী কেক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর জেরেই বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল করে আমাকে মারধর করেন।
“মাহবুব মোর্শেদ ও তার ছেলে আমাকে রড দিয়ে মারধর করেছেন। তাদের ভয়ে আমি হাসপাতালে ভর্তি হতে পারিনি। বেসরকারি একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে আত্মগোপনে আছি।”
মিছিল শেষে আইনজীবী সমিতির পাশের একটি ভবনে শাহীন খান ও তানিয়া সুলতানার চেম্বারে প্রবেশ করে হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
আইনজীবী তানিয়া সুলতানা বলেন, “৩০ থেকে ৩৫ জন লোক আমাদের চেম্বারে ঢুকে পড়েন। এ সময় শাহীন খান টয়লেটে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা দরজা ভেঙে তাকে মারধর করেন।
“আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হচ্ছে, প্রশ্ন করায় আমাকেও গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। বিষয়টি সিনিয়র আইনজীবী ও আইনজীবী সমিতিকে জানানো হয়েছে।”
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় তাদের কর্মসূচির প্রতিবাদে বিএনপি আদালত চত্বরে মিছিল করেছে।
“মিছিল থেকে কেউ কোনো ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে কারা করেছে, তা আমি জানি না”, বলেন তিনি।
শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল ইসলাম বলেন, আদালত চত্বরে আইনজীবীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা শুনেছেন তিনি। ভুক্তভোগীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
আইনজীবী সমিতির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
ওসি শাহ আলম বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
