শিশু ধর্ষণের পর হত্যা: ‘আসামির পক্ষে লড়বেন না আইনজীবী’
শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নে শিশুটিকে হত্যা করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার আসামির ফাঁসির দাবিতে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় লোকজন।
একই সঙ্গে আসামির পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি।
রোববার দুপুরে নিহত শিশুটির মা, স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জেলা আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে আসামির পক্ষে মামলা না লড়ার অনুরোধ জানান। পরে তারা ব্যানার নিয়ে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. মফিজুর রহমান বাবুল বলেন, “আমাদের কোনো আইনজীবী গ্রেপ্তার আসামি জাহিদুলের পক্ষে আদালতে লড়বেন না। দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করব।”
পুলিশ জানায়, শুক্রবার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় নাজেরা বিভাগে পড়ত।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবা প্রবাসী। শুক্রবার সকালে তার মা অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান। এ সময় শিশুটি বাড়িতে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলছিল। পরে জাহিদুল তাকে পানি আনতে বলেন।
পানি নিয়ে আসার পর তাকে একটি খালি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে শিশুটির মা বাড়িতে ফিরে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে জাহিদুলের ঘর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শিশুটির মা মনিরা আক্তার শনিবার আশুগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় জাহিদুল ইসলামকে (২০) আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে।
পুলিশ জানায়, জাহিদুল আদালতে শিশুটিকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
