Published : 29 May 2026, 05:32 PM
শেরপুরে কোরবানির পশুর চামড়ার প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলছে পুরোদমে। এর মধ্যে চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের।
ঈদের দিন থেকেই শহরের খরমপুর মহল্লার ব্যাপারীরা চামড়া কিনে তাতে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু করছেন। পরের দিন শুক্রবারও মৌসুমী অনেক চামড়া ব্যবসায়ী চামড়া নিয়ে ব্যাপারীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
কিন্তু ব্যাপারীরা জায়গা না থাকার অজুহাতে চামড়া কিনতে অস্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ তাদের।

মৌসুমী ব্যবসায়ীরা আরও বলেছেন, যে দামে চামড়া কিনেছেন তার চেয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।
শেরপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর চরের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী সৈয়দ আলী বলেন, “১১ ডা চামড়া কিনে আনছি ৬ নম্বর থনে। চামড়ার দাম অনেক কম। ৬০০ টেহা ৫০০ টেহা কিনা।
“৫০০ টেহা দিয়া গাড়ি ভাড়া কইরা চামড়া নিয়াইছি। কিন্তু অহন তো চামড়া নিতাছে না। বেপারী না করতাছে। অহন ত পড়তা পরতাছে না। খুবই মুসিবতের মধ্যে আছি। ”
আরেক মৌসুমী ব্যবসায়ী উপজেলার মুদিপাড়া গ্রামের কাসেম আলী বলেন, “৩০০ টেহা দিয়া একটা চামড়া কিনছি। সাড়ে ৪০০ টেহা বেচছি। চামড়া আনতে ১০০ টেহা গাড়ি ভাড়া দিছি। ৫০ টেহা লাভ অইছে। তাও আবার এক ঘণ্টা বইসা থাহুন লাগছে। ”
উপজেলার সাপমারি গ্রামের মৌসুমী ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ বলেন, “২৫টা চামড়া কিনছি। কিনছি বেশি দামে। অহন্ত চামড়া নিতাছে না। দাম কমই কি আর বেশিই কি, চামড়া নিতাছে না। চামড়া থুয়ার জায়গা নাই। চামড়ার মধ্যে লবণডা যে দিব সে জায়গা নাই বলে বলতাছে ব্যবসায়ীরা।
“অহন থুমু কেমনে। মালডা তো রাখা যাইতেছে না। বাইত নিয়া থুমু কুনু। কিনা জিনিস। লবণ দিমু, কামলা খাডামু। সবই আমার ধরা। ”
শেরপুর শহরের পুরাতন গরুহাটি মহল্লার কাঠ ব্যবসায়ী আবুল কাশেম তার কুরবানী করা পশু চামড়া নিয়ে এসেছেন বিক্রি করতে। তিনি বলেন, “১০০০ টাহার চামড়া দাম করতাছে ৩০০ টেহা। কি করমু, বাধ্য হইয়া ৩০০ টেহাই বেচলাম।”

এদিকে সরকারি রেটেই কুরবানীর পশুর চামড়া কিনেছেন দাবি খরমপুর মহল্লার চামড়া ব্যবসায়ীদের। এছাড়া চামড়া প্রক্রিয়াজাতের খরচ বেড়ে যাওয়া নিয়েও অনেক অভিযোগ তাদের।
এবার লবণের দাম বেশি জানিয়ে এখানকার ব্যাবসায়ী ময়না বেপারী বলেন, “ঈদের আগে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের লবণের দাম প্রতি বস্তা ৮০০ টাকা থেকে সাড়ে ৮০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা কুরবানির চামড়া কেনাকাটা করে কারো কোনো সহযোগিতা পাই না। আমাদের হাল হকিকত খুব খারাপ। ট্যানারি মালিকদের কাছে আগের পাওনা পুরো টাকাও পাই নাই। তারা মাত্র ২০ ভাগ পাওনা টাকা দিয়েছেন। অনেক কোম্পানির মালিক টাকা না দিয়ে পালিয়েছেন।
“এছাড়া সরকার আমাদের লবণ দিল না। মাদ্রাসাওয়ালাদের লবণ দিছে। পাওয়া উচিত ছিল আমাদের।”
তিনি বলেন, এবার ষাঁড় গরুর চামড়া প্রতিটি ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত এবং গাভী ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কিনেছেন।
একই মহল্লার চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম বলেন, “আমি হাজার- বারশ চামড়া কিনেছি। টেনারি কোম্পানির মালিকরা পাওনা টাকার মধ্যে ৬০-৭০ ভাগ টাকা দিয়েছে। সরকারি রেট মত চামড়া কিনেছি।
“এখন টেনারি কোম্পানির মালিকরা কি দামে আমাদের কাছ থেকে চামড়া কিনবেন আমরা তা জানি না। পুরোপুরি রিস্কের মধ্যে আছি। ”