১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শরীয়তপুরে আবার শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ, বাড়িতে ভাঙচুর-লুটের অভিযোগ

এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তিন দিন আগে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হন।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2026, 08:58 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

শরীয়তপুরের জাজিরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের তিন দিন পর আবার শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার রাতে উপজেলার মুলনা ইউনিয়নের চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মেদ।

তিনি বলেন, ওই গ্রামে আবার হাতবোমার বিস্ফোরণ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা অন্তত ৩৫টি বাড়িতে ভাঙচুর এবং গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ও র‍্যাবের ওই এলাকায় অভিযান চালান।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মুলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার ও জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ান। এ সময় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হাতবোমার আঘাতে রেজাউল শিকদারের পক্ষের সমর্থক মান্নান সরদার (৭০) নিহত হন। এতে আহত হন ১৫ জন। 

এ ঘটনার পর থেকে তমিজ খাঁ ও তার সমর্থকেরা এলাকা ছেড়ে চলে যান।

এ ঘটনায় মান্নান সরদারের ছেলে আনোয়ার হোসেন জাজিরা থানায় আওয়ামী লীগ নেতা তমিজ খাঁকে প্রধান আসামি করে ৮৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে আটজনকে গ্রেপ্তার কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

এ ঘটনার তিন দিন পর বুধবার রাতে মান্নান সরদারের স্বজন ও রেজাউল শিকদারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে তমিজ খাঁ ও তাঁর সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীরা বাড়িঘর থেকে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা রেজাউল শিকদার।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বেপারী, আব্দুল জব্বার খান বলেন, বুধবার রাতে একের পর এক হাতবোমা বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

তমিজ খাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগম বলেন, “প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন। ঘরের বিভিন্ন জিনিস লুট করে নেওয়া হয়েছে। তাদের ও সমর্থকদের বাড়ি থেকে গরু, ছাগলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা রেজাউল শিকদার বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে তমিজ খাঁ এলাকার অনেক মানুষকে নির্যাতন ও চাঁদাবাজি করেছেন। আমার লোকজনের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালানো হয়। এতে আমার এক আত্মীয় মারা গেছেন।”

এখন তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা সাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ এই বিএনপি নেতার।

ওসি সালেহ আহম্মেদ বলেন, রাতে হামলার খবর পেয়ে ওই গ্রাম ঘিরে রাখে পুলিশ। এ ছাড়া তিন দিন আগে একজন নিহতের ঘটনায় অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।