Published : 09 Dec 2025, 10:23 PM
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় একটি মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে ছাত্রীরা যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়েও শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা হামলার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের বাইশারী শাহ নুরুদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার সুপার নুরুল হাকিমের (৫৬) বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী।
স্থানীয়রা বলেন, মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে রোববার মানববন্ধনে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপর হামলা হয়েছে। এই হামলায় চার-পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
হামলার ঘটনায় সোমবার এক শিক্ষার্থীর মা রাবেয়া আক্তার সাতজনের নাম উল্লেখ করে ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নবম ও দশম শ্রেণির মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপর মাদ্রাসা সুপার নূরুল হাকিম বিভিন্ন সময় অজুহাত দেখিয়ে শরীরে হাত দেন। এ বিষয় নিয়ে বাসায় এসে ছাত্র-ছাত্রীরা বলাবলি করে।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির কাছে বিচার দেওয়ার পরও কোনো সুষ্ঠু বিচার পাওয়া যায়নি। পরে রোববার মানববন্ধনের জন্য মিছিলটি বাইশারী বাজার থেকে মাদ্রাসার দিকে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়।
রাবেয়া আক্তার বলেন, “আমরা বিচার চাইতে মানববন্ধন করতে গেছি। কেন আমার ও আমাদের বাচ্চাদের উপর হামলা হবে। যৌন হয়রানির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। যেহেতু আমার সন্তান ছেলে।”
মাদ্রাসার সুপার নূরুল হাকিম বলেন, “আমার বযস এখন ৬০ এর কাছাকাছি। যদি মেয়েদের যৌন হয়রানির মানসিকতা থাকত ৩০ বছর আগে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠত। এই প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছর ধরে আছি। ৩ হাজার টাকা বেতনে চাকরি নিয়ে তিলে তিলে প্রতিষ্ঠানটিকে আজ বড় করেছি। এখন আমার বিরুদ্ধে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হচ্ছে।”
যৌন হয়রানির বিষয়টি তদন্ত করতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহাবুবুব ইলাহিকে প্রধান করে তিনজনের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন ইউএনও।
তদন্ত কমিটির একজন বলেছেন, “শিগগির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
তদন্ত কমিটির আরেকজন বলেন, “মাদ্রাসার নবম ও দশম শ্রেণির মেয়ে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় হাতে মেহেদি মেখে আসত। সেই বিষয়ে হাত ধরে বকাবকি করতেন। এটা অপরাধ করেছেন। তবে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির বিষয়ে সত্যতা মেলেনি।”
বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মো. আলম কোম্পানি বলেন, “নূরুল হাকিমকে দীর্ঘ বছর ধরে দেখছি। তিনি এমন কাজ করতে পারেন বলে বিশ্বাস করতে পারছি না। মনে হয়, তার বিরুদ্ধে একপক্ষ ষড়যন্ত্র করছে।”
বাইশারী শাহ নুরুদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রফিক বসরী বলেন, “বিচার চাইতে এসে বিচার পাননি সত্য নয়। অভিযোগকারীদের কাছে সময় চাওয়া হয়েছিল। তারা সময় দেননি।”
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি আবদুল বাতেন বলেন, “হামলার জন্য শিক্ষার্থীর এক অভিভাবক বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে।”
নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “তিনজনের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি এখনও প্রতিবেদন জমা দেয়নি। হামলার বিষয়ে তদন্তের ভিত্তিতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।”