১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জাবিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণচেষ্টা: আসামির গ্রেপ্তার দাবি, প্রক্টরের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের নিন্দা

শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের একদল শিক্ষার্থী মানববন্ধনে এই প্রতিবাদ জানান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 May 2026, 06:27 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:38 PM

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তারা আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অশোভন শব্দ চয়নের’ প্রতিবাদ জানান। 

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের একদল শিক্ষার্থী মানববন্ধনে এই প্রতিবাদ জানান।  

পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ-জাকসুর পরিবহন সম্পাদক তানভীর রহমান বলেন, “১২ মে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই ঘটনার পর শত ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপরাধীকে গ্রেপ্তারের ন্যূনতম দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের সামনে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি।”

তিনি বলেন, “এই ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সচেতন এবং তারা জানে কীভাবে একটি আন্দোলন সফল করতে হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল, অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু এই আন্দোলনকে পুঁজি করে কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছে।”

এ সময় প্রক্টরের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ. কে. এম. রাশিদুল আলমের সঙ্গে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক আচরণ করা হয়েছে এবং তার প্রতি ঘৃণ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। 

“পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, এ ধরনের আচরণের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। প্রয়োজনে তাদের ছাত্রত্বও বাতিল করতে হবে।”

শিক্ষার্থী ধর্ষণচেষ্টার আসামি গ্রেপ্তার ও বিচার দাবির ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর কার্যালয়ে তালা দেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তারা প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করেন এবং তাদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

এরপর রোববার সন্ধ্যায় পৃথক তিনটি ঘটনায় ক্যাম্পাসে নারী হেনস্তার অভিযোগে তিনজন বহিরাগতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় সোপর্দ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাতে তাদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। 

অভিযোগ রয়েছে, একই রাতে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কেউ প্রক্টরের প্রতি ‘অশ্রাব্য ভাষা’ ব্যবহার করেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। 

আরও পড়ুন:

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা৭২ ঘণ্টার মধ্যে বহিরাগতকে গ্রেপ্তারের আশ্বাসে

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টাপ্রক্টর অফিসের পর রেজিস্ট্রার ভবনেও তালা

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তদন্তে ৭ জনের কমিটি

জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টাআসামিকে গ্রেপ্তারসহ পাঁচ দাবি জাকসুর

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টাসন্দেহভাজনের তথ্য চেয়ে পুরস্কার ঘোষণা পুলিশের

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টাক্যাম্পাসে 'সোয়া ৪ ঘণ্টা ঘোরাফেরা করেন'

জাবি শিক্ষার্থীকে 'ধর্ষণচেষ্টা': রাতভর উত্তাল ক্যাম্পাসছয় দফা দাবি

জাবি ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগমামলা