Published : 09 Apr 2026, 02:12 PM
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক জ্বরের রোগীকে কুকুরের কামড়ের প্রতিষেধক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতালের ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ওই চিকিৎসা সহকারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার দুপুরে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী শিশু আলিফার বাবা কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর গ্রামের বসিন্দা এমরান হোসেন জানিয়েছেন।
জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) আবু ইউসুফও ভুলের কথা স্বীকার করেছেন।
ঘটনার বর্ণনায় এমরান হোসেন বলেন, বুধবার দুপুরে পাঁচ বছর বয়সী সন্তান আলিফাকে জ্বরের চিকিৎসার জন্য জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। একই সময়ে শাহরাস্তি উপজেলার আহম্মদ নগর গ্রামের রুবেল তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে নাজমুলকে কুকুরের কামড়ের চিকিৎসা দিতে ওই বিভাগে আসেন।
দুই রোগীকে পরীক্ষা করে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম দুজনের জন্য আলাদাভাবে চিকিৎসাপত্র দেন।
এমরানের অভিযোগ, “জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আবু ইউসুফ চিকিৎসকের ওই ‘ব্যবস্থাপত্র না দেখেই’ জ্বরে আক্রান্ত আলিফাকে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন দেন।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, পরে রোগীর অভিভাবকদের সঙ্গে জরুরি বিভাগে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আবু ইউসুফ বলেন, “একই সময়ে ওই দুই রোগী সেবা নিতে আসেন। ভুল করে জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে কুকুরের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তবে এতে রোগীর কোনো সমস্যা হয় নেই।
“আমি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।”
এ প্রসঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকলিমা জাহান বলেন, “আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। এ ভ্যাকসিনটি ভুলক্রমে দেওয়া হলেও রোগীর কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
“তারপরও দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দায়িত্বে অবহেলা করেছে মর্মে তাকে বিধি মোতাবেক শোকজ করা হয়েছে।”