Published : 07 Mar 2026, 11:46 PM
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের একটি গ্রামে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করে স্থানীয় মসজিদ কমিটির দেওয়া নোটিস ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
ইসলামপুর ইউনিয়নের পোড়াগ্রামের ওই মসজিদ কমিটি শুধু নোটিস দিয়েই বসে থাকেনি; এ সংক্রান্ত ফেস্টুনও গ্রামে টাঙিয়ে দেয়।
মাস তিনেক আগের এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় গ্রামটিতে শুধু সামাজিক অনুষ্ঠানই নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালাদের ওপরেও কড়াকড়ি আরোপ করে মসজিদ কমিটি।
সেইসঙ্গে এ নির্দেশনা অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও নোটিসে বলা হয়।
এ ঘটনা সামনে আসার পর পুলিশ সম্প্রতি সেই ফেস্টুন অপসারণ করেছে।
আর স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর মসজিদ কমিটি এ ঘটনায় ‘ভুল স্বীকার’ করেছে বলে তথ্য দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন।
একই সঙ্গে ইউএনও মসজিদ কমিটিকে সভা করে গানবাজনা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পাশাপাশি ‘ভুল স্বীকার’ করে লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে মুচলেকা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
মাস তিনেক আগে ডিসেম্বরে পোড়াগ্রামের ওই মসজিদ কমিটির নোটিসে বলা হয়, গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা ও পারিবারিক শান্তি রক্ষার জন্য ‘শিরক, বিদআত, গান-বাজনা ও অপসংস্কৃতি’ পরিহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রামবাসী। এ কারণে গ্রামে প্রকাশ্যে উচ্চশব্দে গান-বাজনা বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।
এ নোটিসের বিষয়টি সম্প্রতি আলোচনায় আসার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
এভাবে গান-বাজনা নিষিদ্ধের ঘোষণাকে অবৈধ বলে তুলে ধরেন ইউএনও মারুফ আফজাল।
তিন আগের সেই নোটিস ঘিরে গ্রামবাসীর মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বিষয়টিকে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও অনেকে বলছেন, বিয়ে-শাদি ও খাতনাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা বাস্তবসম্মত নয়।

নোটিস জারির পর গ্রামে সতর্কীকরণ বার্তা দিয়ে কয়েকটি ফেস্টুনও টাঙানো হয়।
সেই সময় থেকে গ্রামে প্রকাশ্যে গান-বাজনা বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মো. সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
আসলাম নামের এক দোকানি বলেন, “গ্রামের নিয়ম মেনেই টেলিভিশনে খবর ছাড়া গান-বাজনা দেখেন না কেউ। এতে যদি পরিবেশটা ভালো হয়।”
ওই গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, “নোটিস জারির পর ফেস্টুন টাঙ্গিয়ে এবং মসজিদে ফতোয় দিয়ে বিয়ে ও উৎসব অনুষ্ঠানে গান-বাজনা এবং বাদ্যযন্ত্র বন্ধের কথা বলা হয়। নিয়ম না মানলে বিয়ে পড়াতে যাবেন না মৌলভিরা।”
সম্প্রতি বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে পুলিশ ফেস্টুনগুলো খুলে নিয়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি নূরে আলম বলেন, পোড়াগ্রামে গান-বাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণার বিষয়টি জানার পর ফেস্টুনগুলো অপসারণ করা হয়। গ্রামবাসীকে আইন মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও মারুফ আফজাল বলেন, “কোনো মসজিদ কমিটি এভাবে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করতে পারে না; এটা অবৈধ। এর কোনো আইনি ভিত্তি কিংবা বিধিবিধান নেই। এ বিষয়ে তাদের (মসজিদ কমিটি) বুঝিয়েছি; তারা ভুল স্বীকার করেছেন।”
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নোটিস দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।