১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এনআইডি জালিয়াতি: কুড়িগ্রামের সেই সোনালীর বিরুদ্ধে নির্বাচন অফিসে অভিযোগ

বাবা-মায়ের নামের জায়গায় মুক্তিযোদ্ধা শ্বশুর ও শাশুড়ির নাম বসিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছিলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সোনালী খাতুন।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Dec 2022, 01:00 PM

Updated : 18 Dec 2022, 01:00 PM

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বাবা-মায়ের নামের জায়গায় মুক্তিযোদ্ধা শ্বশুর ও শাশুড়ির নাম বসিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র বানানো সোনালী খাতুনের বিরুদ্ধে এবার স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ করা হয়েছে।

গত সোম ও বুধবার নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাচন অফিসে তার বিরুদ্ধে দুই ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন।

অভিযোগকারী স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী বলেন, “সোনালী খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্রে যাচাইকারী হিসেবে আমার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আমি কখনও তার এনআইডির সনাক্তকারী ছিলাম না। তদন্ত কমিটি আমার কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হই।”

তার অভিযোগ, ২০১৪ সালে ভোটার হালনাগাদের সময় তথ্য সংগ্রহকারী নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশরাফ আলী খন্দকার ‘পরস্পর যোগসাজশে’ তার সই জাল করেছেন। বিষয়টি যাচাই করে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

অপর অভিযোগকারী আনছার সদস্য হাসান আলী বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে সোনালী খাতুনকে চিনতাম না। কিন্তু এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে জানতে পারি সোনালী খাতুনের ভোটার হালনাগাদ ফরমে সনাক্তকারী হিসেবে আমার সই রয়েছে, যা জাল করা।”

সোনালী খাতুন নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুটি নাওডাঙ্গা আমিরটারী তালবেরহাট গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হক ও জমিলা বেগমের ছেলে আনিছুর রহমানের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি উলিপুর উপজেলার নাগড়াকুরা গ্রামে।

২০০৭ সালে রংপুর বেতারে অফিস সহায়ক আনিছুরের সঙ্গে সোনালীর বিয়ে হয়। ২০১৪ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় নিজের বাবা-মায়ের নামের বদলে তিনি শ্বশুর ও শাশুড়ির নাম দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। জন্ম তারিখ দেখানো হয় ১৯৯৪ সালের ২৫ মে।

বিধি অনুযায়ী ভোটার তথ্য ফরমের যাচাইকারীর জায়গায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং সনাক্তকারীর হিসেবে প্রতিবেশীর পরিচয়পত্র নম্বর ও সই থাকার কথা। কিন্তু সোনালী খাতুন ১ নম্বর ওয়ার্ডের হলেও যাচাইকারীর তালিকায় রয়েছে ২ নম্বর ওয়ার্ডের আকবর আলী ও হাসান আলীর নাম।

এছাড়া ২০১০-১১ সেশনে অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে মাদ্রাসায় ভর্তি হন সোনালী খাতুন। সেখানে তথ্য গোপন করে শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেন। ওই মাদ্রাসা থেকে তিনি ২০১৩ সালে জিপিএ-২ দশমকি ৯৪ পেয়ে দাখিল পাস করেন। জালিয়াতির ওই ঘটনা এ বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ভোটার তালিকা হাল নাগাদের সময় সোনালী খাতুনের তথ্য সংগ্রহকারী আশরাফ আলী খন্দকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রায় ৮-১০ বছর আগের ঘটনা। পুরোটা আমার মনে নেই। তাছাড়া স্বাক্ষর কমবেশি হতে পারে। আপনারা ভালো করে যাচাই করে দেখেন।”

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচনের কাজে তিনি রংপুরে রয়েছেন। সেখান থেকে ফিরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

চলতি বছরের ১১ অক্টোবর কুড়িগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোনালী খাতুন আবার শ্বশুর-শাশুড়ির নাম পরিবর্তন আসল বাবা-মায়ের নাম দিয়ে হলফনামা করতে যান। সেখানে ভুয়া কাগজপত্র পেয়ে আদালত তাকে পুলিশের সোপর্দ করে। চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মজনু মিয়া আদালতের বেঞ্চ সহকারীকে তার বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে সোনালী খাতুনের বক্তব্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পারেনি। তবে তার স্বামী আনিছুর রহমান এর আগে বলেছিলেন, ‘ভুল করে’ তার স্ত্রী এমনটি করেছেন; ভোটার আইডি কার্ড ও শিক্ষাসনদ ঠিক করে নেবেন।

আরও খবর

পুরানো খবর:

এনআইডি বদলে শ্বশুর-শাশুড়িকে করলেন বাবা-মা