আশুলিয়ায় কারখানার ছাদ থেকে পড়ে কর্মকর্তার মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা
শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও দেখেছি। সেগুলো সাংবাদিক ও পুলিশকে সরবরাহ করা হয়েছে।”
ঢাকার আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানার বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
বুধবার সকালে নরসিংহপুর এলাকার শারমিন গ্রুপে এ ঘটনা ঘটে বলে আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান।
তিনি বলেন, দুপুরে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মো. জামাল উদ্দিন (৩৯) গাজীপুর সদর থানার বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত মো. সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩ এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের ভাই ফখরুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “সকালে অফিসে আসার পর সাড়ে ৯টার দিকে জানানো হয় যে, আমার ভাই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা গেছেন।”
তিনি একে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ দাবি করে বলেন, “যার ছোট বাচ্চা রয়েছে এবং যিনি প্রতিষ্ঠিত কর্মকর্তা তিনি কখনো আত্মহত্যা করতে পারেন না। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ভেতরের লোকজন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
নিহতের স্ত্রী নাহারের দাবি, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় মোবাইল ফোনে কারখানায় একটু ঝামেলা হয়েছে বলে জামাল জানিয়েছিলেন। সকালেও বলেছে, কর্তৃপক্ষ খারাপ যে কোনো কিছু করতে পারে। পরে তাকে অফিসে যেতে নিষেধ করা হয়। তখন তিনি বলেন, অফিসে না গেলে উল্টো ফাঁসিয়ে দিতে পারে।
“অফিসে যাওয়ার পর সে আর ফোন রিসিভ করেনি। দুই ঘণ্টা পর একজন ফোন রিসিভ করে জানায়, সে অসুস্থ। আমাদের হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে জানানো হয় সে আত্মহত্যা করেছে। কিন্ত সে কখনও আত্মহত্যা করতে পারে না।”
এ ব্যাপারে শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “নিহত জামাল উদ্দিন সকালে নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিসে আসেন। আমরা সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও দেখেছি। সেগুলো সাংবাদিক ও পুলিশকে সরবরাহ করা হয়েছে।
“ভিডিওতে দেখা গেছে, জামাল নিজেই ছাদে যায় এবং দুই মিনিটের মত ফোনে কথা বলে। এরপর তিনি ছাদের সেফটি দেয়ালের উপর ১৫ মিনিট বসে থাকার পর লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন।”
প্রাথমিক সুরতহাল করা আশুলিয়া থানার এসআই ফাহিম বলেন, নিহতের হাত-পা ভেঙে যেতে পারে। ছাদ থেকে লাফ দেওয়ায় নাক-মুখ দিয়ে রক্ত এসেছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, “বিষয়টি প্রশাসনের ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত। আমরাও ভালোভাবে খোঁজখবর নিচ্ছি।”
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটাকে আমরা আত্মহত্যা হিসেবেই ধরে নিচ্ছি। তবে কেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।”
