আশুলিয়ায় কারখানার ছাদ থেকে পড়ে কর্মকর্তার মৃত্যু: এমডি ও পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা
নিহতের ভাই বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।
আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অবস্থিত পোশাক কারখানা ‘শারমিন গ্রুপের’ বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে এক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার মো. জামাল উদ্দিন।
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে নিহতের ভাই ইস্কান্দার আলী বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন।
মামলায় শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইসমাইল হোসেন (৬৫) ও তার ছেলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শারাফ হোসেনকে (৩৫) আসামি করা হয়েছে।
নিহত ৩৮ বছর বয়সী জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদর থানার উত্তর পূর্বরিয়া এলাকার সেকান্দার আলী খানের ছেলে।
মামলার বাদী ইস্কান্দার আলী খান বলেন, “জামাল দীর্ঘদিন ধরে শারমিন গ্রুপে সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার পদে চাকরি করে আসছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৮টায় তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন। এর দেড় ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে, কারখানার পক্ষ থেকে আমার মা কোহিনুর বেগমকে ফোন করে জানানো হয় যে, জামাল প্রতিষ্ঠানটির ভবনের আটতলা থেকে নিচে পড়ে গেছেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
“খবর পেয়ে স্বজনেরা দ্রুত কারখানার পাশের আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে ছুটে যায়। সেখানে জামালকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। ঘটনার ধরন ও খবর দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে শুরু থেকেই কারখানা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সম্পর্কে ধোঁয়াশা ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়।”
পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় বলে জানান ইস্কান্দার।
তার অভিযোগ, “কারখানা কর্তৃপক্ষ আমার ভাইয়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মানসিক নির্যাতন করায় সে কারখানা ভবনের অষ্টম তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। গত কয়েকদিন ধরে কারখানার ভেতরে তার সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছিল। এ বিষয়ে সে তার স্ত্রী সাবিকুন নাহারকে মোবাইল ফোনেও জানিয়েছিল।”
মামলাটি তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।
