এক ‘অপরাধে’ আমাকে তিনবার সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে: রুমিন
সোমবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন।
প্রশাসনের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করার অভিযোগ তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পর বিএনপির সাবেক নেতা এই অভিযোগ করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি। আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দেখানো বৃদ্ধাঙ্গুলির কথা বলতে গিয়ে আমি এ রকম দেখায় বলেছি।
“আমার এক অপরাধের বিরুদ্ধে ‘যদি হয়ে থাকে’, তিনবার সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমি এমন প্রশাসনের অধীনে কিভাবে নির্বাচন করি, যারা অলরেডি বায়াসড।”
সোমবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন।
এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেন। তিনি বলেন, “আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শোকসভার নামে সমাবেশ করছেন। মঞ্চ বানিয়ে মাইক দিয়ে সমাবেশ করছেন। গরু জবাই করে খাওয়াচ্ছেন। আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
“আজ সকালে আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম, কার বিরুদ্ধে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিতে পারেননি।”
তিনি শোকজের কর্তৃপক্ষ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমাকে নির্বাচন কমিশন শোকজ করার অধিকার রাখে। কিন্তু ডিসি কিভাবে শোকজ করেন?”
তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা এমন নোটিশ দিতে পারেন না।
এ সময় তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ডিসি শোকজ করতে পারেন কিনা- স্বতন্ত্র প্রার্থীর এমন প্রশ্নের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, “জেলা প্রশাসক জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাও। তিনি নির্বাচনি আইন বলেই, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থীকে শোকজ করতে পারেন। রুমিন ফারহানাকে আইনগতভাবেই শোকজ করা হয়েছে।”
২২ জানুয়ারি বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে রুমিন ফারহানাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার এক চিঠিতে এই অভিযোগ আনেন।
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে শনিবার চিঠি পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, সরাইলের ইসলামাবাদ গ্রামে মঞ্চ করে জনসমাবেশের আয়োজন করেন রুমিন ফারহানা, যা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন। তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ ভেঙে দেওয়া হয়।
নির্বাহী হাকিম শাহরিয়ার হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ সময় রুমিন ফারহানা নির্বাহী হাকিমকে আক্রমণাত্মকভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন এবং আঙ্গুল উঁচিয়ে বারবার হুমকি প্রদর্শন করেন।
অভিযোগে বলা হয়, এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে থাকা জুয়েল মিয়াসহ অন্যরা মারমুখী আচরণ করেন। এতে মব সৃষ্টি করে বিচারিক কাজে বাধা এবং কর্তব্যরত হাকিমকে হুমকি প্রদান করেন, যা নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চিঠিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর একটি লিঙ্ক দেওয়া হয়।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
