Published : 06 Jan 2026, 04:00 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নুসহ ১৪ জনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কিশোরগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনের মনোনয়পত্র যাচাই-বাছাইয়ের এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মুজিবুল হক চুন্নু ও আবু বকর সিদ্দীক। যাছাই-বাছাইয়ে সিদ্দীক টিকে গেলেও বাতিল হয়েছে চুন্নুর মনোনয়ন।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, আবু বকর সিদ্দীক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের স্বাক্ষরিত চিঠি জমা দিয়েছেন। তবে মুজিবুল হক চুন্নুর চিঠিতে স্বাক্ষর করা নেতৃত্বের তথ্য নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনে নেই।
জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লা আরও বলেন, কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর), কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া) ও কিশোরগঞ্জ- ৩ (করিমগঞ্জ ও তাড়াইল) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়পত্র যাচাই বাছাই কার্যক্রমে বিএনপি ও জামায়াতের মনোনীত সব প্রার্থী বৈধ হয়েছেন।
বিএনপি প্রার্থীরা হচ্ছেন- কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে জালাল উদ্দিন ও কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক।
জামায়াতের প্রার্থীরা হচ্ছেন- কিশোরগঞ্জ-১ আসনে অধ্যাপক মোসাদ্দেক ভুইয়া, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে শফিকুল ইসলাম মোড়ল ও কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে ডা. জেহাদ খান।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হিলালীর মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু, সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল হোসাইন এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে।
মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় গড়মিলের কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া) আসনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমাদানের সাপেক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুজ্জামান খোকনের মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে।
মনোনয়ন বাছাই কার্যক্রমে পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদ আলমসহ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম), কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর) ও কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর) এ তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ২৯ প্রার্থীর মধ্যে বাছাই শেষে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।