Published : 01 May 2026, 06:35 PM
দুই মাসের জাটকা সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের জেলেরা নদীতে নামলেও আশানুরূপ ইলিশ ও জাটকা পাচ্ছেন না। ফলে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় খালি হাতেই ঘাটে ফিরতে হচ্ছে তাদের।
দেশের অন্যতম বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ‘চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে’ এখন চরম স্থবিরতা বিরাজ করছে। আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি শ্রমিকদের চোখে-মুখেও হতাশার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলছেন, “বৃহস্পতিবার রাত থেকে জেলেরা মাছ ধরা শুরু করেছেন। তবে আবহাওয়া ভালো না থাকায় অনেকেই এখনো নদীতে নামেননি।”
পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না ঘটলে জীবিকা সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা মৎস্য বিভাগের দেওয়া তথ্য বলছে, সরকারের ইলিশ অভয়াশ্রম কর্মসূচির আওতায় মার্চ ও এপ্রিল মাসে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল।
এ সময় শুধু ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়; যাতে নির্বিঘ্নে মাছের প্রজনন ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা যায়।
শুক্রবার সকালে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, পদ্মা-মেঘনার মোহনায় অবস্থিত এই ব্যস্ত মাছঘাটটি প্রায় ফাঁকা। পাশে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে মাছ শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। কবে মাছ আসবে সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা।
মাঝে মধ্যে দু-একটি নৌকা এলেও অধিকাংশ জেলেই ফিরছেন শূন্য হাতে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিনা এলাকার জেলে আবুল কালাম বলছিলেন, “দীর্ঘদিন পর নদীতে জাল, নৌকা নিয়ে নেমে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। নৌকার খরচ উঠানো এখন কষ্টকর হয়ে উঠেছে।”
স্থানীয় মাছ বিক্রেতা আলাউদ্দিন বলেন, “অন্যান্য বছর এ সময় ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ঘাটে ভরপুর থাকে। কিন্তু আজকে মাত্র দুই থেকে চারটি ইলিশ আর অল্প কিছু মাছ ছাড়া কিছুই ওঠেনি।”
এদিকেব মাছ না থাকায় দৈনিক আয় বন্ধের উপক্রম হয়েছে মাছ ঘাটের শ্রমিকদের। পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
শ্রমিক আব্দুর রহিম ও মো. খায়ের বলেন, নদীতে মাছ না থাকায় কাজের সংকটে পড়েছেন তারা। সারাদিন বসে থেকেও মিলছে না কোনো কাজ, বাড়ছে দুশ্চিন্তা।
আড়তদার সাগর হোসেন বলছেন, “নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক জেলে এখনো নদীতে নামতে পারেননি। যারা নামছেন, তারাও আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না।”
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শবে বরাত বলেন, চাঁদপুর মাছঘাটে বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ইলিশের দাম ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় গত বছর এ সময় ৩৫ হাজার ১০৪ মেট্রিকটন ইলিশ ধরা পড়েছিল বলে জেলা মৎস বিভাগ জানিয়েছে।
তবে এ বছর এখন পর্যন্ত কত ইলিশ ধরা পড়েছে, সে বিষয়ে মৎস্য বিভাগ কোনো তথ্য জানাতে পারেনি।