Published : 06 Sep 2026, 12:27 PM
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের কাঞ্চনপুর ও বাল্লা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের আয়োজনে ইছামতি নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘সোনারচান-২’ নৌকা।
শনিবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় সাতটি নৌকা অংশগ্রহণ করে বলে জানান কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মুসা।
প্রায় এক যুগ পর এই এলাকায় নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। বাইচের সীমানা নির্ধারণ করা হয় কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন কুশিয়ারচর এলাকা থেকে বাল্লা ইউনিয়নের খেরুপাড়া ঘাট পর্যন্ত।
এক কিলোমিটারের বেশি এই এলাকায় নদীর দুই পাশে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ, শিশুরা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এই নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। এছাড়া অনেকে নৌকা নিয়ে নদীতে অবস্থান নিয়ে বাইচ দেখছেন।
স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনে দূর দূরান্ত থেকেও মানুষ বাইচ দেখতে জড়ো হয়েছিলেন। তাদের করতালি ও হর্ষধ্বনিতে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
শিবালয় উপজেলার আরোয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ষাটোর্ধ আব্দু করিম বলেন, “৪-৫ বছর পর বাইচ দেখলাম, আইজ ভালো বাইচ হইচে।”
কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মুসা বলেন, “দীর্ঘ কয়েক বছর পরে আমাদের এলাকায় ইছামতি নদীতে আজ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হলো। এতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই নৌকা বাইচ উপভোগ করে।
তিনি বলেন, বাইচে ঘিওর উপজেলার নকিববাড়ি, দিয়াইলের ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ, সোনারচান-২, গায়ান বাড়ি, গায়ান তরী, হাজারি তরীসিহ প্রত্যন্ত গ্রামের ছোট বড় ৭টি ঘাসি ও খেল্লা নৌকা অংশ নেয়।
আয়োজক কমিটির সদস্য ও ব্যাংকার এখলাস উদ্দিন বলেন, “ এবারের বাইচে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সোনারচান-২ নৌকার মাঝিরা। পুরস্কার হিসেবে আমরা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ দিয়েছি।”
পুরস্কার বিতরণীকালে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বলেন, “নৌকা বাইচ আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। আমাদের বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় আজকের এই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার মানুষ এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করছে।”
“এটি যেন আগামীতে অব্যাহত থাকে আমরা সেভাবে চেষ্টা করে যাব”, বলেন তিনি।