Published : 30 Apr 2026, 08:49 PM
ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। দীর্ঘ বিরতির পর নদীতে নামার অপেক্ষায় প্রায় তিন লাখ জেলে।
পুনরায় মাছ শিকারে নদী নামতে পারায় জেলেপাড়ায় বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। নৌকা মেরামত ও জাল গোছানোর কাজও প্রায় শেষ। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছেন জেলেরা।
জেলার বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, উৎসবমুখর পরিবেশে কেউ ছেঁড়া জাল সারছেন, কেউ ট্রলারে রং করছেন। আবার কেউ নৌকার ইঞ্জিন পরীক্ষা করে নিচ্ছেন।
রাজাপুরের জেলে তাজু মাঝি বলেন, “দুই মাস নদীতে নামতে পারি নাই। অনেক কষ্ট হয়েছে সংসার চালাতে। আশা করছি রাত ১২টার পর নদীতে প্রচুর ইলিশ ও অন্য মাছ পাব। মাছ বেঁচে দেনা শোধ করতে পারব।”
তবে জেলে মতলব মাঝি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার থেকে চাল দেওয়া হলেও নগদ অর্থের অভাবে কিস্তি ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।
তাদের দাবি, চালের পাশাপাশি কিছু আর্থিক সহযোগিতা দিলে জেলেদের জন্য আরও সুবিধা হত।
তবে এ বছরই প্রথম চালের পাশাপাশি সাড়ে ১৩ হাজার জেলে তেল, ডাল, আলু, আটা ও পেঁয়াজ পেয়েছেন।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, দুই মাস মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে কঠোর নজরদারি চালানো হয়। প্রতিদিন যৌথ অভিযানের মাধ্যমে কয়েক লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। যার সুফল জেলেরা এখন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলে জেলায় প্রায় তিন লাখ জেলে আছেন; যার মধ্যে বড় একটি অংশ অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ করেন।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের জন্য ৪০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সঠিকভাবে নিষেধাজ্ঞা পালন করায় নদীতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলেরা এখন নিয়ম মেনে জাল ফেললে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাবেন।
এর মধ্য দিয়ে জেলেরা গেল দুই মাসের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই মৎস্য কর্মকর্তা।
ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে ও জাটকা সংরক্ষণে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এবং ইলিশা পয়েন্ট থেকে মনপুরার চরপিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার।