Published : 18 Dec 2025, 11:55 PM
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রতিবেশী ও স্বজনরা তার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার গ্রামের বাড়িতে ছুটে এসেছেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলার খাসমহল এলাকার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শোকার্ত মানুষের ভিড়। তাদের অনেকেই কাঁদছিলেন।
স্বজন ও প্রতিবেশীদের কেউ কেউ, এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন।

চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়। গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
হাদি আক্রান্ত হওয়ার পর পরই তাদের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ঢাকায় চলে এসেছিলেন। এর মধ্যে সেখানে চুরির ঘটনাও ঘটে।
স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বাড়িতে হাদির এক বোন ছিলেন। সেখানে নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। তবে পরিবারের সদস্যরা কেউ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।
খাসমহল এলাকার বাসিন্দা এক নারী (৩০) বলছিলেন, “হাদির মৃত্যুর খবরে এখানে সবাই শোকাহত। কথা বলার ভাষা নেই। এমন প্রতিবাদী কণ্ঠ নলছিটির গর্ব। এ ঘটনার বিচার না হলে ভবিষ্যতে আর কোনো হাদি জন্ম নেবে না। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সবাইকে জুলাই অভ্যুত্থানের মত ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

আরেক প্রতিবেশী (৫০) বলছিলেন, “হাদি দ্বীনের কথা বলতে গিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তার পরিবার খুব ভাল। এই বাংলার জমিনে হত্যাকারীদের অবশ্যই বিচার হতে হবে। এটাই আমাদের চাওয়া।”
আরেক নারী (৪৫) বলেন, “হাদি আমাদের খাসমহলের সন্তান। সে খুব ভাল ছিল, তার বাবাও ভাল ছিল। আজকে সত্য কথা বলতে গিয়ে সে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। যে তাকে হত্যা করেছে আমরা তার কঠোর বিচার চাই।”