২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রিকসে যোগ দেওয়ার চেষ্টা সরকারের সুবিধাবাদী পদক্ষেপ: মির্জা ফখরুল

“আওয়ামী লীগ সরকারে অপকর্ম, দুঃশাসন, দুর্নীতি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে মানুষ এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা এই সরকারকে আর দেখতে চায় না।”

ব্রিকসে যোগ দেওয়ার চেষ্টা সরকারের সুবিধাবাদী পদক্ষেপ: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও শহরের নিজ বাসভবনে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jun 2023, 02:47 PM

Updated : 30 Jun 2023, 03:00 PM

ব্রিকস জোটে বাংলাদেশের যোগ দিতে চাওয়ার ইচ্ছাকে সরকারের সুবিধাবাদী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে এই চেষ্টায় কোনো লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে এটা সরকারের সুবিধাবাদী পদক্ষেপ। যখন তারা দেখছে যে পশ্চিমা বিশ্ব আওয়ামী লীগকে খুব বেশি গ্রহণ করছে না; তখন তারা ব্রিকসে যাওয়ার চেষ্টা করছে।”

শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ী এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত ব্রিকস জোট যোগ দিতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা সংস্থাটির বর্তমান চেয়ার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে বলে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পুরানো খবর:

কেন ব্রিকসে যোগ দেবে বাংলাদেশ, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ব্রিকস জোটে যুক্ত হলেও এই সরকারের কোনো লাভ হবে না জানিয়ে ফখরুল আরও বলেন, “যেখানেই যাক না কেন, আওয়ামী লীগ সরকার যদি দুর্নীতি বন্ধ না করে তাহলে কোনো জায়গা থেকেই তারা সুবিধা পাবে না।”

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশে এক ধরনের রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে রেখেছে বলেও নিজের মত প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের যে ব্যবস্থা ছিল, সেটা বাতিল করেছে আওয়ামী লীগ। যাতে তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারে অপকর্ম, দুঃশাসন, দুর্নীতি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে মানুষ এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা এই সরকারকে আর দেখতে চায় না।”

বিএনপিকে জনগণের দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির চলমান আন্দোলন দলের জন্য নয়, মানুষের জন্য। এই আন্দোলনে গোটা পৃথিবীর সমর্থন রয়েছে।

“আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো-মানুষের ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়া, সাংবিধানিক অধিকার সেটাকে অক্ষুণ্ণ রাখা; গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।”

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

বিএনপির আন্দোলনের সঙ্গে অন্য কোন কোন রাজনৈতিক দল যুক্ত আছে, সাংবাদিকরা সে সম্পর্কে জানতে চাইলে অতীতের জোট ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ফখরুল।

তিনি বলেন, “সমস্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। এখন প্রকাশ্যে যারা আছেন তারা যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। আমরা সবার পরামর্শ নিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের একটা রূপরেখা তৈরি করতে চাই।

“যারা বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফেরত চায় এবং আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গেই বিএনপি আছে।”

এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।