Published : 10 Sep 2026, 08:09 PM
রাজশাহীর সাহেব বাজারে একটি জুয়েলার্সের দোকানের দেয়াল কেটে চুরির ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যাদের মধ্যে একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলে ভাষ্য গোয়েন্দা পুলিশের।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং সোনা বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান।
ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার সাতজনকে এদিন সকালে রাজশাহীতে নিয়ে আসা হয় বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, ১৯ জুন ভোরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল সাহেব বাজারে কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে জটলা তৈরি করেন। পরে পাশের আফিয়া জুয়েলার্সের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে তারা। এরপর তারা ওই দোকানের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে পাশের কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে মালামাল লুট করে নিয়ে যান।
ঘটনার পরদিন ২০ জুন কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তূর্য সরকার বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। চোরেরা দোকান থেকে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, এক হাজার ২০০ ভরি রুপা ও নগদ ২৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলার তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ, সাইবার ইউনিট ও সিসিটিভি ইউনিট কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গাজিউর রহমান বলেন, চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে চুরি করে। তারা একটি মোবাইল ফোন একবারের বেশি ব্যবহার করেন না। সিম কার্ডও থাকে অন্য ব্যক্তিদের নামে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে যাদের নামে সিম নিবন্ধিত, তারাও নিজেদের নামে ওই সিম থাকার বিষয়টি জানেন না।
তিনি বলেন, চক্রের সদস্যরা কোনো এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন না। চুরির আগে তিন থেকে চার মাস ধরে নির্দিষ্ট এলাকা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি চালান। কখনো ব্যবসায়ী, আবার কখনো ক্রেতা সেজে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে দোকান ও আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহ করেন।
পরে দোকানে প্রবেশ ও পালানোর পথ নির্ধারণ করে চুরি করেন। বছরে তারা এক থেকে দুটি বড় ধরনের চুরি করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তের এক পর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে খুলনা থেকে রুস্তম আলী শেখকে (৬৪) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার মাধবপুরা গ্রামের স্বপন (৬২), উজ্জ্বল (৩৭), রিয়াজ (৩৯), ইউনুস (৪৫), বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা গ্রামের আবু তালেব (৪৫) এবং কালাম শেখকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মালামাল কেনার অভিযোগে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বড়নীখোলা গ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, রবিউলের হেফাজত থেকে ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। চুরি যাওয়া বাকি মালামাল উদ্ধার এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তারদের শুক্রবার সকালে আদালতে তুলে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।