Published : 20 Aug 2026, 03:33 PM
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ঘনঘন লোডশেডিং ও ট্রান্সফরমা বদলে না দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় অফিসের কাচ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ড্রয়ার ভাঙচুরের পাশাপাশি পিডিবির এক কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের শিমরাইল গ্রামের একদল লোক পিডিবির উপজেলা কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে জানান ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম।
আহত পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, শিমরাইল গ্রামের কয়েকশো বাসিন্দা এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎহীন। এ ছাড়া ঘনঘন লোডশেডিং লেগেই আছে। ট্রান্সফরমার বদলের দাবিতে বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য বিদ্যুৎ অফিসে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি করেছেন গ্রাহকরা।
এদিন বেলা ১১টার দিকে ওই গ্রামের ২০০ থেকে ২৫০ জন গ্রাহক পিডিবি কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ওসি রবিউল আজমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় পুলিশ বিক্ষুব্ধ লোকজনকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা সজিব মিয়া, নূরুল হক, আতিকুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম বলেন, ১৩ অগাস্ট রাতে গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎ নেই। এতে গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
তাদের অভিযোগ, নতুন ট্রান্সফরমার দেওয়ার কথা বলে পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলীকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও এক সপ্তাহেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বিদ্যুৎ অফিসে যান।
গ্রাহকদের দাবি, প্রায় এক মাস আগেও গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছিল। তখন নতুন ট্রান্সফরমারের পরিবর্তে পুরোনো ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়। সেটি কিছুদিন পর আবার নষ্ট হয়ে যায়। তাদের অভিযোগ, বারবার পুরোনো ট্রান্সফরমার দেওয়ার কারণেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট, খাবার সংরক্ষণে সমস্যা, প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানান তারা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলছেন পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, “কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিক্ষুব্ধ লোকজন আমার ওপর হামলা শুরু করেন। ট্রান্সফরমারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে লাইন সংযোগ ও মেরামতের কাজে লাইনম্যানদের কিছু খরচাপাতি সব জায়গায় দেওয়া হয়।
“এলাকাবাসী মূলত নতুন ট্রান্সফরমার চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের বিভাগে ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় পুরোনো একটি ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করেছেন।”
পিডিবি ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম বলেন, শিমরাইল গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছিল। কিন্তু ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ট্রান্সফরমার পেতে দেরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “গতকাল রাতেই একটি ট্রান্সফরমার এসেছিল। কিন্তু সেটি পুরোনো হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এতে আমাদের উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হয়েছেন।”
ওসি রবিউল আজম বলেন, দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস পেলে বিক্ষুব্ধ লোকজন সরে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।