শেরপুরে অনগ্রসর নারীদের ‘মুষ্টির চালে’ দুর্গাপূজা
উমা সংঘের সভাপতি মুক্তি বিশ্বাস বলেন, “পরিবারগুলো থেকে মুষ্টির চাল সংগ্রহ করে বিক্রি করা ৬০ হাজার টাকা দিয়ে আমরা কাজ শুরু করি।”
শেরপুর শহরের পিছিয়ে পড়া আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের সনাতন ধর্মালম্বী নারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুষ্টিচালের টাকায় দুর্গাপূজা করছেন।
দেবী দুর্গা হচ্ছে নারী শক্তির প্রতীক- এমন বিশ্বাসকে ধারণ করে সজবরখিলা-সাতানিপাড়া মহল্লার উমা সংঘ ক্লাবের ব্যানারে এ পূজার আয়োজন করেছেন তারা।
অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এবারও বড় পরিসরে সম্ভব না হলেও টানা তৃতীয়বারের মতো কেবল নারীদের উদ্যোগেই এ আয়োজন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উমা সংঘের সভাপতি মুক্তি বিশ্বাস।
শেরপুর শহরের পৌর এলাকার সজবরখিলা-সাতানীপাড়া মহল্লায় আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। এর মধ্যেই কয়েকজন নারী একজোট হয়ে আলাদাভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের উদ্যোগ নেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ নারী সদস্যের ‘উমা সংঘ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেন তারা। তারা সিদ্ধান্ত নেন মহল্লার ৪২টি পরিবার থেকে প্রতিদিন এক মুষ্টি করে চাল সংগ্রহ করবেন। পরবর্তীতে সেই চাল বিক্রি করে বছর শেষে সঞ্চয় করা হয়। বছর শেষে এভাবে জমে ওঠা টাকা পুঁজি করে তারা পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেন।
তবে একটি পূজা সম্পন্ন করতে অনেক টাকা খরচ হওয়ায় তারা শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে অনুদানও সংগ্রহ করেন।
এর মধ্যেই শহরের পালপাড়া থেকে প্রতিমা তৈরি করে তাদের নির্ধারিত পূজা মন্ডপে স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সাজসজ্জা, তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও পূজার প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ শেষে শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে পূজা।
সংঘের নারীদের পাশাপাশি স্থানীয় পুরুষ ও তরুণ-তরুণীরাও এ উদ্যোগে সব ধরনের সহযোগিতা করছেন।
উমা সংঘের সভাপতি মুক্তি বিশ্বাস বলেন, নারীরা শক্তির প্রতীক। নারীশক্তির জাগরণ এবং পুরুষদের পাশাপাশি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীদের সক্ষমতা তুলে ধরতেই আমাদের এ আয়োজন।
“২০২৪ সালের প্রথম আয়োজনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার টানা তৃতীয়বারের মতো পূজা করছি। পরিবারগুলো থেকে মুষ্টির চাল সংগ্রহ করে বিক্রি করা ৬০ হাজার টাকা দিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। সবার অক্লান্ত পরিশ্রমে এবারও আয়োজন সম্ভব হয়েছে।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুমিতা বিশ্বাস বলেন, “আমাদের পাড়ায় আদিবাসী-দলিতদের পাশাপাশি ব্রাহ্মণ ও সাহা পরিবারের বাসিন্দারাও আমোদের সহযোগিতা করছেন। এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। ”
এবার সফলভাবে পূজা সম্পন্ন করতে পারলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় আদিবাসী নেতা বিদ্বান বিশ্বাস বলেন, “হতদরিদ্র পরিবারের নারীরা যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। সমাজের এই পিছিয়ে পড়া নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই।”
শেরপুর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি জিতেন্দ্র মজুমদার বলেন, “উমা সংঘের জন্য অন্য মণ্ডপের চেয়ে সরকারি বরাদ্দ কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে। তারা কেবল পূজাই করছে না, নারীশক্তির প্রকৃত আরাধনা করছে।”
