Published : 07 Jul 2025, 04:30 PM
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ‘প্রেমিকার’ বিয়ে ভাঙতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়ে গণপিটুনি খেয়েছেন এক বিজিবি সদস্য।
উপজেলার মধ্য চরসুন্দী গ্রামে রোববার এ ঘটনা ঘটে বলে পালং মডেল থানার এএসআই একে আজাদ জানিয়েছেন।
ওই বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার সুলাইমান মুন্সী শরীয়তপুর সদর পৌরসভার কাশাভোগ গ্রামের মোতালেব মুন্সীর ছেলে। পাবনার ঈশ্বরদী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন তিনি।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাতে এএসআই বলেন, “সুলাইমান মুন্সী নিজের স্ত্রী ও সন্তানের বিষয় গোপন করে এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে তাদের কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে ওই মেয়ে সুলাইমানের প্রতারণার কথা জানতে পেরে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়। সম্প্রতি মেয়েটির পরিবার তার তার বিয়ে ঠিক করে। রোববার তার বিয়ের দিন ধার্য ছিল।
“বিয়ে ভাঙার উদ্দেশ্যে সুলাইমান পাত্রপক্ষকে তাদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, বিয়ের দিন সকালে তিনি সরাসরি ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ে ভাঙার চেষ্টাও করেন। এ সময় সুলাইমানের প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পেলে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে গণপিটুনি দেয় পালং মডেল থানায় খবর দিয়ে পুলিশের কাছে হাস্তান্তর করে।”
ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন, “আমি তার বিয়ের কথা জানার পর সম্পর্ক রাখতে চাইনি। কিন্তু সুলাইমান আগের ছবি দেখিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করত। বিভিন্ন সময়ে আমার কাছ থেকে প্রায় এক লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।”
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “আমার মেয়ের জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে সুলাইমান। আমি তার কঠিন শান্তি চাই, যেন আর কেউ এমন করতে না পারে।”
পালং মডেল থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “জনতার হাত থেকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুলাইমানকে আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেছেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”