Published : 06 Feb 2026, 04:26 PM
বাংলাদেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই জামায়াতে ইসলামীর মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন দলের আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, “আমরা বদ্ধপরিকর। আল্লাহর দেওয়া হুকুম অনুযায়ী এই জমিনে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করতে চাই। আল্লাহর হুকুম, যেখানে তোমরা থাকো সেখানে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করো।”
শুক্রবার ঝালকাঠি সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোটের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ গত ৫৪ বছরে বে-ইনসাফে ভরে গেছে। যার কারণে ভয়াবহ ঋণখেলাপী হয়েও এবার নির্বাচনে লড়াই করবে। এ দেশে গরীব মানুষের জন্য কোনো বিচার নেই, নিরীহ ভদ্রলোকের জন্য কোনো বিচার নেই, নির্যাতিত নারী ও শিশুর জন্য কোনো বিচার নেই। বিচার শুধু পকেটের টাকার আর গায়ের জোরের। ওই বিচারকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চাই। আমরা সেই বিচার কায়েম করতে চাই যে বিচার কায়েম করার জন্য আল্লাহ বলেছেন।
“এ ব্যাপারে কোনো কমপ্রোমাইজ নাই, টলারেন্স জিরো। এখানে কারো সঙ্গে কোনো আপোষ নাই। যে অপরাধের জন্য সাধারণ জনগণের শাস্তি হবে সেই একই অপরাধের জন্য প্রধানন্ত্রীরও শাস্তি হবে। ন্যায় বিচার যখন কায়েম হবে জনগণ যার যার জায়গা থেকে তার হকটা পেয়ে যাবে। রাষ্ট্র বাধ্য থাকবে জনগণের হক জনগণকে বুঝিয়ে দেওয়ার।সকল অন্যায়ের পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
জামায়েত ইসলামীর আমির বলেন, ‘এ দেশে আর চাঁদাবাজ, মামলাবাজ, দখল বাণিজ্য চলবে না। এই দেশে আর দুর্নীতি চলবে না। দুর্নীতির গাছের পাতা ধরে টান দিবো না, মাথার পাশে যে কান আছে সেই কান ধরে টান দিবো। বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে কমপক্ষে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই টাকা জনগণের সবার। এই টাকা ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমাদের অঙ্গিকার যে জায়গাগুলো অতীতে বঞ্চিত হয়েছে সেই জায়গাগুলো আগে চিহ্নিত করে উন্নয়ন করা হবে। এখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না।”
যুবকদের উদ্দেশে শফিকুর বলেন, “তাদের কারণে আজ ২৬ দেখতে পারছি। তাদের কাছে আমরা ঋণী। তারা যুদ্ধ না করলে ২৯ কিংবা ৪১ সন পর্যন্ত এ জাতিকে কালো অন্ধকারে থাকতে হতো। তাদের যে আকাঙ্ক্ষা ছিলো তা বাস্তবায়ন করা হবে।
“আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে বেইজ্জত করতে চাই না। তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। তাদের ভোটের পাহারাদারী করতে হবে। কেউ যদি ভোট কেড়ে নিতে আসে তাহলে হাত ভেঙে দিতে হবে। এ দেশ যুবকদের হাতে তুলে দিবো।”
নারীদের উদ্দেশে আমিরে জামায়াত বলেন, “আমরা ওই বাংলাদেশ চাই না যে বাংলাদেশে মা বোনদের ইজ্জতের গ্যারান্টি নাই। ওই বাংলাদেশ চাই না সন্ত্রাসীরা মা বোনদের গায়ে হাত তুলবে, বাঁকা চোখে তাকাবে। সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই সবজায়গায় মা বোনেরা নিরাপত্তায় থাকবে।”
ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঝালকাঠি-১ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ফয়জুল হক, ঝালকাঠি-২ আসনের শেখ নেয়ামুল করিম ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।