Published : 11 Jun 2026, 07:20 PM
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা সীমান্তে ‘পুশ ইনের’ শিকার সেই বৃদ্ধাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে পুলিশ; যিনি দুই মাস আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে দাবি স্বজনদের।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বকশীগঞ্জ থানা থেকে তাকে হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন বকশীগঞ্জ থানার ওসি মো. মকবুল হোসেন।
এদিন সকালে উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্তের শূন্য রেখায় ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর তাকে উদ্ধার করে বিজিবি।
ভুক্তভোগী ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৬৮) রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই এলাকার বাবু চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
ওসি মকবুল হোসেন বলেন, “ষষ্ঠী চন্দ্রকে গ্রহণ করতে রাজশাহী থেকে আসেন তার ভাই ভবানী বর্মন ও মেয়ে জামাই রৌদ চন্দ্র বর্মন। দুই মাস আগে হারিয়ে যাওয়া মানুষকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বজনরা।”
এর আগে বুধবার সকালে রামরামপুর সীমান্ত দিয়ে ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী-বিএসএফ। এ সময় বিজিবি ও স্থানীয়রা বাধা দিলে ওই ব্যক্তিকে শূন্যরেখায় ফেলে রেখে যায় বিএসএফ।
পরে বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এ নিয়ে দিনভর উত্তেজনার মধ্যে বিকাল ৫টার দিকে কাঁটাতারের দুই প্রান্তে দুই দেশের নাগরিকরা একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করেন।
স্থানীয়দের দাবি ছিল ওই বৃদ্ধ ভারতের চেন্নাইয়ের বাসিন্দা। দীর্ঘ সময় সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানের পরে বাংলাদেশি হিসেবে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে বৃহস্পতিবার তাকে উদ্ধার করা হয়।
‘পুশ ইনের’ ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃদ্ধের ছবি ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবারের সদস্যরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিকাল ৫টার দিকে তাকে পরিবাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ষষ্টি বর্মনের ভাই ভবানী বর্মন বলেন, “দুই মাস আগে হঠাৎ ভাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। আমার ছেলে একটা ভিডিও দেখে বলে, যে কাকাকে জামালপুর সীমান্তে পাওয়া গেছে। পরে আমরা বিজিবির সাথে যোগাযোগ করি। আজ ভাইকে ফিরে পেলাম।”
পরিচয় মিলেছে জামালপুর সীমান্তের শূন্য রেখায় থাকা বৃদ্ধের
জামালপুর সীমান্তে উত্তেজনা, দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে ইট-পাটকেল
জামালপুর সীমান্তে একজনকে 'পুশ ইনের' চেষ্টা, বিজিবি-বিএসএফ উত্তেজনা