Published : 01 Jan 2026, 02:36 PM
“শীতের কারণে সকালে কাজে যাইতে দেরি হয়। ঠান্ডায় হাত-পা চলতে চায় না, তবু কাজ না করে উপায় নাই। পেট তো চলা লাগবে।” কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের দিনমজুর নাজমুল হোসেন
২৮ বছর বয়সী এ যুবকের মত ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ায় দিনেও তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। শীতের তীব্রতায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। আর দরিদ্র ও দিনমজুররা কাজ না পেয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
জেলা প্রশাসন শীতবস্ত্র বিতরণ ও নগদ তহবিল প্রস্তুত করেছে। তবু কুড়িগ্রামের মানুষদের কষ্ট কমেছে না।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
শীতের প্রভাবে জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন বহু রোগী কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি ডাইরিয়া, নিউমনিয়া ও শাসকষ্টের রোগীও বেড়েছে।
কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চাপ বাড়ায় মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আলামিন বলছিলেন, তীব্র শীতের কারণে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এই হাসপাতালে হাসপাতালে কথা হয় মাহমুদল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমার ছেলের কয়েকদিন থাকি জ্বর সর্দি ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এসেছি।”
কুড়িগ্রামে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি। দিনের বেলায় সূর্যের আলো থাকলেও মিলছে না সেই কাঙ্ক্ষিত উষ্ণতা। এ অবস্থায় বেশি কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার বৈশ্যপাড়া এলাকার দিনমজুর আজাদ ও নির্মল বলছিলেন, শীতের তীব্রতায় তাদের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। তাদের দুজনের হাতে কাজ নেই। ধার করে চলছেন।
নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগন্জ ইউনিয়নের তাইজুল ইসলাম বলেন, “এবার ঠান্ডা অনেক বেড়েছে। ছেলে মেয়ে নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। এখনো কেউ কম্বল দেয় নাই।”
একই এলাকার হামিদুল ইসলাম বলছিলেন, “ঠান্ডায় কাজ করলে হাত-পা জ্বালা করে। ঠিকমতো কাজ করতে পারি না। রাতে জ্বালাপোড়ায় ঘুম হয় না।”
রৌমারী থেকে কুড়িগ্রাম জজ কোর্টে মামলায় হাজিরা দিতে আসা সোলায়মান ও রফিকুল বলেন, ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডার কারণে নদী পথে আসতে তাদের ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে।
তাদের সঙ্গে থাকা একই এলাকার রাশেদুল বলেন, “শুধুমাত্র কুয়াশার কারণে এক ঘণ্টার পথ ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। ফলে আইনি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আর আসা যাওয়ায় কষ্ট হয় অপরিসীম।”
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা এখনও তেমন বাড়েনি। এরপরও বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন যে রোগীরা আসছেন তারা আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।”
এদিকে কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলায় ২২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে ও নগদ ৫৪ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে বলে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানিয়েছেন।