Published : 11 Jul 2025, 12:27 PM
নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস এসএসসির ফলাফলে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে।
এ বছর ৩২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ ৫ পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন এসএসসির ফলাফল ঘোষণার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শির্ক্ষাথীরা।
সেখানে কথা হয় জিপিএ ৫ পাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আফ্রাদের সঙ্গে।

শাহরিয়ার বলছে, “বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে এ ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। বিদ্যালয়ের পাশাপাশি হোম ভিজিট ও বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হয়েছে।
“যেসব শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ক্লাসে দুর্বল তাদেরকে আলাদা নজরদারিসহ গাইড টিচারের মাধ্যমে নিয়মিত হোম ভিজিট করা হয়েছে।”
শিক্ষকদের পাশাপাশি এ ফলাফলের পেছনে অভিভাবকদেরও কৃতিত্ব রয়েছে বলে জিপিএ ৫ পাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শেয়শ্রী সরকারসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা জানায়।
প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লাসহ শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এর আগেও একাধিকবার শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশ সেরা ফলাফল অর্জন করে এ প্রতিষ্ঠানটি।
নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. কামাল হোসেন বলেন, “২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে টানা শতভাগ পাসসহ ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় প্রতিবছরই বোর্ডে দেশ সেরার স্থান দখল করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩১৭ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ৩ জনসহ মোট ৩২০ পরিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ৩২০ শিক্ষার্থীই জিপিএ ৫ পেয়েছে।”

প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, “বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবদের মধ্যে সমন্বয় হচ্ছে ভাল ফলাফলের মূল মন্ত্র। আর আমাদের মূলমন্ত্র হচ্ছেন আবদুল কাদির মোল্লা। তার সময়োপযোগী সঠিক দিক নির্দেশনায় সাফল্যের ফলাফল অব্যাহত রাখতে পারছি। আমাদের শিক্ষকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।”
নরসিংদীতে মানসম্মত শিক্ষাদানের অঙ্গীকার নিয়ে ২০০৮ সালে শহরের ভেলানগর এলাকায় থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা এবং তার স্ত্রী মিসেস নাসিমা বেগমের নামে যৌথভাবে নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস প্রতিষ্ঠা হয়।
বর্তমানে ১৬৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার সার্বিক তত্ত্বাবধানে স্কুলটি কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে স্কুলটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৫০০ জন।

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, “শতভাগ পাসসহ দেশ সেরা ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে বিদ্যালয়টি। সারাদেশের সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এ প্রতিষ্ঠানটি দেশসেরা। মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার স্ত্রী নাসিমা বেগম স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম।
“আমরা এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করব। সার্বিকভাবে শিক্ষক, অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীদের টানা পরিশ্রম এ সফলতা এনে দিচ্ছে।”