বিরাট রাজার ঢিবি খননে মিলছে প্রাচীন ও মধ্যযুগের নিদর্শন

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এই ঢিবিতে প্রথমবারের মত খননকাজ চালাচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

গাইবান্ধা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Feb 2024, 01:43 PM
Updated : 4 Feb 2024, 01:43 PM

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক বিরাট রাজার ঢিবি খনন করে প্রাচীন ও মধ্যযুগের অবকাঠামোর কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এবং খননকারী দলের প্রধান ড. নাহিদ সুলতানা এ তথ্য জানান।

বিরাট রাজার ঢিবিতে প্রথমবারের মত খননকাজ পরিচালনা করছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের আট সদস্যের একটি দল।

নাহিদ সুলতানা বলেন, “১৭ ডিসেম্বর এখানে খননকাজ শুরু হয়েছে। দেড় মাস খননকাজ শেষে বেশ কিছু প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গেছে। এখন এ খননকাজ অব্যাহত আছে।”

তিনি বলেন, বর্তমান খননে ধারণার চেয়ে অধিক বড় আকারের অবকাঠামো পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত এখানে পোড়ামাটির ভগ্নাংশ, পোড়ামাটির ফলক, অলংকৃত ইট (সাধারণত ধর্মীয় উপাসনালয়ের সাজ-সজ্জায় ব্যবহৃত হয়), ভিত্তিপ্রস্তর পিলার পাওয়া গেছে। যা প্রাচীনত্বের সাক্ষ্য বহন করে। বর্তমানে ঢিবিটির আকার ৫০ মিটার এবং প্রস্থ ৩৫ মিটার এবং উচ্চতা ৪ মিটার।

তবে নিদর্শনগুলো ঠিক কোনো আলমের এবং কারা এখানে বাস করতেন বা কাদের রাজ্য ছিল বড় আকারে খননকাজ সম্পূর্ণ না হলে তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয় বলেন জানান তিনি।

প্রত্নস্থলটি এর মধ্যে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই স্থানকে গুরুত্ব দিয়ে বৃহৎ আকারে খননকাজ পরিচালনা করে জায়গাটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সেই সঙ্গে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলেও জানান এই আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা।

জনশ্রুতি থেকে জানা যায়, এখানে প্রাচীন একটি দুর্গ নগরী ছিল। যার নিরাপত্তার জন্য ছিল সুউচ্চ প্রাচীর এবং প্রাচীরের বাইরে প্রশস্ত ও সুগভীর পরিখা।

তবে নাহিদ সুলতানা জানান, বর্তমান খননকারী দল এখন পর্যন্ত প্রাচীন দুর্গ নগরীর কোনো চিহ্ন খুঁজে পাননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মূল অবকাঠামোর সঙ্গে আরও দুই-তিনটি মন্দিরের সংযোগ সড়ক ছিল যা বর্তমানে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

খাঁজা এম এ কাইয়ুম নামের স্থানীয় এক গবেষক দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিরাট রাজার ঢিবি নিয়ে গবেষণা করেছেন।

তিনি তার একটি নোটবুকে লিখে গেছেন, বিরাট রাজা সমস্ত ভারতবর্ষে ‘মৎস্যরাজ’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই অঞ্চলে মাছ চাষের জন্য তিনি ৯৯৯টি পুকুর খান করেন।

সুধীর চন্দ্র সরকার সংকলিত পৌরাণিক অভিধান থেকে জানা যায়, মৎস্য দেশের বিরাট রাজা ‘রাজ কুবের’ তুল্য ধনী ছিলেন। তার গো-ধোনের তুলনা ছিল না। পাণ্ডবরা দ্রৌপদীর সহিত এক বছর অজ্ঞাত বাসকালে বিরাটের রাজসভায় ছদ্মবেশে ও ছদ্মনামে অতিবাহিত করেন।

রাখালরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯২৫-২৬ খ্রিষ্টাব্দে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ১৯০৫ সালের দিকেও এ স্থান জঙ্গলাবৃত ছিল। কিছু বছর আগে সাঁওতালরা এখানে পরিষ্কার করে ঘরবাড়ি তৈরি করেন।