Published : 15 Jun 2026, 12:51 AM
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে আর্থিক খাতের জন্য একটি সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তা-মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)।
রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, “বিএবি সংস্কারমুখী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে স্বাগত জানাচ্ছে। আমরা সরকারের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অংশীদারত্বে কাজ করার অঙ্গীকার করছি। একইসঙ্গে লুটপাট হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার, ব্যাংকগুলোর জন্য ন্যায্য করনীতি নিশ্চিত করা এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সুরক্ষার আহ্বান জানাচ্ছি।
“এই বাজেট আর্থিক খাতের জন্য একটি সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিশেষ করে সরকার ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণের জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংস্কার উদ্যোগ এবং বন্ড বাজার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির প্রশংসার দাবি রাখে।”
গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। ৩০ জুন এই বাজেট পাস হবে।
বিএবির বিবৃতিতে বলা হয়, “দেশের অর্থনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতাকে স্থান দেওয়ার জন্য এবং দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনামূলক বাজেট উপস্থাপনের জন্য বিএবি সরকারকে অভিনন্দন জানায়।
“বিএবি বিশেষভাবে স্বাগত জানায় দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণের জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দকে; আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততা ও করপোরেট সুশাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কাঠামোকে। ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করার দৃঢ় অঙ্গীকারকে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের চাপ কমাতে করপোরেট ও পৌরসভা বন্ড বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগকে।”
আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক অব্যাহতির সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা এবং প্রতি ঋণ সুবিধার ক্ষেত্রে একক হারে আবগারি শুল্ক নির্ধারণের ফলে আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতারা সরাসরি উপকৃত হবেন বলেও মনে করছে বিএবি।
একই সঙ্গে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ, যেখানে ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি রয়েছে এবং লভ্যাংশ দেশে ফেরত আনার সুবিধা, বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও একক জানালা (সিঙ্গেল উইন্ডো) বিনিয়োগসেবাসহ নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ কর্মসূচি বিনিয়োগকারীদের কাছে ‘আস্থার শক্তিশালী বার্তা’ পৌঁছে দেবে বলেও মনে করছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বাজেট ঘাটতির বড় একটি অংশ বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের বিচক্ষণ সিদ্ধান্তকেও বিএবি প্রশংসা করে। বিএবির সদস্য ব্যাংকগুলো এই উদ্যোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত।”
বেইলআউট বা আর্থিক উদ্ধার প্যাকেজের পাশাপাশি লুণ্ঠিত সম্পদ উদ্ধারে জোরালো তৎপরতা চালাতে বিবৃতিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে বিএবি। সংগঠনটি বলছে, এমন সংস্কার আনতে হবে, যাতে ব্যাংক ধসের জন্য দায়ীরা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পুনরায় কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের বোঝা মোকাবিলা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্স শিট (আর্থিক বিবরণী) মেরামতে সহায়তার জন্য একটি ‘অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি)’ বা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে তারা।
প্রস্তাবিত বাজেটে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ না রাখা ‘একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার শামিল’ বলেও মনে করে বিএবি।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, “যদি লুট হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে সরকারি অর্থ দিয়ে ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। তাই পুনঃমূলধনীকরণের পাশাপাশি ‘রিফর্ম, রিকভারি এবং অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।”